

দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ টুর্নামেন্টের আগে দলের প্রস্তুতি যে মোটেও সন্তোষজনক হয়নি, সে আক্ষেপ আর লুকাতে পারেননি অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বিশ্বকাপের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগে গতকাল মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানের সামনেই এমন আক্ষেপ ফুটে ওঠে জ্যোতির কণ্ঠে।
বিশ্বকাপ ঘিরে বড় দলগুলোর প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ইংল্যান্ড দলকে দেখা গেছে দুবাইয়ে ক্যাম্প করতে। ভারত-অস্ট্রেলিয়া খেলছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। তবে পাঁচ মাস ধরেই কোনো আন্তর্জাতিক সিরিজ আর খেলা হয়নি বাংলাদেশ নারী দলের। বড় দলের সঙ্গে খেলতে পারলে ভালো হতো জানিয়ে জ্যোতি বললেন, ‘অবশ্যই। আদর্শ প্রস্তুতি হয়তো হয়নি।’ তারপর বিসিবির চেষ্টায় যতটা সম্ভব ততটা প্রস্তুতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশে যত ধরনের ফ্যাসিলিটি আছে, সবগুলো আমরা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত আমরা যতগুলো ক্যাম্প করেছি, সব সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি, চেষ্টা তো করা হয়েছে। তবে যেটা হয়নি, সেটা নিয়ে চিন্তা করছি না। যেভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পেয়েছি, আমার মনে হয় ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’ বিকেএসপিতে প্রস্তুতি ম্যাচে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের সঙ্গে সুবিধা করতে পারেননি জ্যোতিরা। সবকটি ম্যাচেই ব্যর্থতা ফুটে ওঠে তাদের। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো অপ্রত্যাশিত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত ছিল। হয়তো আরেকটু ভালো উইকেট পেলে বেশি ভালো হতো। যে দুটো দল খেলেছে, সবুজ দলটা কিন্তু তুলনামূলক ভালো করেছে। আমি যে দলে ছিলাম, সেটি বেশি ভালো করতে পারেনি। অন্য দলটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেছে। উদ্দেশ্য ছিল, নতুন একটা কম্পিটিটিভ দলের সঙ্গে খেলা।’
বাংলাদেশের এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আছেন বেশ কয়েকজন নতুন মুখও। স্কোয়াড ঘোষণার পর অনেকগুলো নতুন মুখ দেখে সমালোচনাও হতে দেখা গেছে। জ্যোতি সেটার ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘দল যখন নির্বাচন করা হয়, একজন ক্রিকেটারকে অনেক দিন পর্যবেক্ষণ করার পরই নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্বে কাকে দিয়ে করালে ভালো হবে, সেই চিন্তা করেই ক্রিকেটারদের নেওয়া হয়। সারপ্রাইজ হিসেবে যেটা বলছেন, সবশেষ আমরা যে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলেছি, সেখান থেকে ২-১টা পরিবর্তন আছে। ওইটার পর আমরা লম্বা সময় ক্যাম্প করেছি। অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছি। সব কিছু দেখার পর আমাদের মনে হয়েছে, হয়তো এই ক্রিকেটারকে বদলালে আমাদের জন্য ভালো হবে।’
দলে ভারসাম্য আনতে প্রস্তুতিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন জ্যোতিরা। এক সিরিজ থেকে অন্য সিরিজের মধ্যে লম্বা সময় গ্যাপ থাকায় এভাবেই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেট খেললে আপনি স্ট্যান্ডার্ডের বিষয়টা বুঝতে পারবেন। আমরা একটা সিরিজ খেলি, এরপর ৩-৪ মাস আর কিছু খেলছি না। ব্যাটিং ইউনিট একটা পর্যায়ে আসার পর, ওইটা ধরে রাখতে হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হবে, প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলতে হবে। এই জিনিসগুলো বাড়লে হয়তো আমাদের আরেকটু ভালো হবে।’