রীতা ভৌমিক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৩, ০২:০১ এএম
আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ০৮:১৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিবন্ধীবান্ধব নয় সব মোবাইল অ্যাপ

বাস্তবায়নের কাজ চলছে
প্রতিবন্ধীবান্ধব নয় সব মোবাইল অ্যাপ

বর্তমানে দেশে যেখানে দৃষ্টি, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে তৈরি হচ্ছে নানা সফটওয়্যার, সেখানে কিছু মোবাইল অ্যাপস এখনো তাদের জন্য প্রবেশগম্য নয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য সেগুলো আদৌ ব্যবহার উপযোগী কি না, তাও যাচাই করার আলোচনা আসছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, প্রতিবন্ধীরা যথার্থভাবে সুবিধা ভোগ করতে না পারলে ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্জন অর্থবহ হবে না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ফয়সাল মোহাম্মদ ইব্রাহিম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। মোবাইলের অ্যাপস ব্যবহার করেই লেখাপড়া ও কর্মক্ষেত্র দুটোই চালাচ্ছেন। তবে তার অভিযোগ, মাঝেমধ্যে কিছু সমস্যায় পড়তে হয়। যদিও অ্যাপসগুলোর প্রবেশগম্যতা আগের চেয়ে বাড়ছে বলেও জানান। তবে বাংলা সিপিএস ভয়েসের ক্ষেত্রে আরও বেশি জোর দেওয়া দরকার বলে দাবি ইব্রাহিমের।

ওই শিক্ষার্থী কালবেলাকে জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জেপিজি ফাইল পড়তে পারেন না। আবার যে কোনো ভিডিওর সাব টাইটেলে সাউন্ড ল্যাংগুয়েজের ব্যবহারও খুবই কম। এসব কারণে সমস্যায় পড়তে হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাও আছে। সরকারি ওয়েবসাইটে এক্সেবিলিটি ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে ফন্ট সাইজ ছোট-বড়, কালার পরিবর্তন, কারসার বড় করা, লিংক হাইলাইট কিংবা আন্ডারলাইন করা যায়। এখন এরকম অনেক ফিচার যুক্ত করায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রবেশগম্যতা বেড়েছে।

ইব্রাহিম আরও বলেন, প্রতিবন্ধী হিসেবে মোবাইল বা কম্পিউটারে পত্রিকা পড়তে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে ঢুকলে যখন বিজ্ঞাপন আসে, সেগুলো স্কিপ করার অপশনটা খুব বেশি প্রবেশগম্য নয়। আবার অর্থ লেনদেন অ্যাপসগুলোর মধ্যে বিকাশ তুলনামূলকভাবে ব্যবহার উপযোগী হলেও কিছু সমস্যা আছে। চবির ওই শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও ডিজিটাল এক্সেবিলিটির চাহিদা ব্যাংক ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো অনুধাবন করেনি। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইলে বাংলা ভাষার অপারেটর সিস্টেম ব্যবহারেও সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন আইফোন ও ম্যাক ল্যাপটপের বাংলার মান ভালো নয়। পড়ি ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ি। সেখানে বাংলা ভয়েস প্রবেশগম্য নয়, বরং দুবোর্ধ্য। সরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে এ নিয়ে কাজ হচ্ছে জানি। কাজ শেষ হয়ে গেলে অ্যাপসগুলো ভালো পর্যায়ে যাবে। তাহলেই স্মার্ট টেকনোলজি স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ব্যবহার করতে পারব বলে আশা করেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ইব্রাহিম।

চবির আরেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাহি জি চৌধুরী। পড়েন ইতিহাস বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষ। স্কিনরিডার দিয়ে মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করেন। সেখানে বিভিন্ন ভাষা রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, রাশিয়ান, জার্মানি ও হিন্দি।

এ প্রসঙ্গে রাহি কালবেলাকে জানান, টেক্সট টু স্পিচ বাংলা ভাষার ভয়েস অন্য ভাষার মতো উন্নত নয়। এটি যখন বাংলা লেখা পড়ে শোনায়, তখন উচ্চারণে অনেক ভুল করে। এটা শুনলে বাংলা লেখার সময় ভুলের আশঙ্কা থেকেই যায়। ফেসবুকের যে কোনো পোস্টের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ একবারেই লাইকে ক্লিক করতে পারেন। কিন্তু যারা আমাদের মতো টকবুক ব্যবহার করেন, তাদের দুবার ক্লিক করতে হয়। অর্থ লেনদেনে নগদের ক্ষেত্রে পিন নাম্বার উচ্চারিত হয় না। এটা বড় সমস্যা। এজন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অ্যাপসটি ব্যবহার করতে পারেন না। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সেবার মান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য তুলনামূলক ভালো। তিনি আরও বলেন, সরকারি কিছু ওয়েবসাইটে স্কিনরিডারের দ্বারা দিকনির্দেশনার সমস্যা হয়, যা প্রতিবন্ধীবান্ধব নয়।

অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (অ্যাকসেসিবিলিটি) ভাস্কর ভট্টাচার্যের মতে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে যেসব অ্যাপস তৈরি হয়েছে বা হবে, তা অবশ্যই তাদের ব্যবহার উপযোগী হতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি গাইডলাইন বাস্তবায়নে কাজ করছে এটুআই। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে কোনো প্রতিবন্ধিতা এখন বাধা নয়। ব্যবহার উপযোগী হলে এখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে যে কোনো অ্যাপস ব্যবহার করতে পারবেন।

রাহি বলেন, অধিকাংশ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস অ্যাপলিকেশন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী নয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এজে) ব্যবহার করে জটিল প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাও বিভিন্ন অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন বহির্বিশ্বে। এটুআইর ডিজঅ্যাবিলিটি ইনোভেশন ল্যাব দেশে এ বিষয়ে কিছু গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এক্সেসেবল ভিকনেশানি ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপলিকেশন প্রবেশগম্যতা রয়েছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির।

এটুআই প্রোগ্রাম প্রকল্পের পরিচালক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে মোবাইল অ্যাপসের প্রবেশগম্যতার কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি, শিগরিগরই সেগুলো শেষ করতে পারব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাপ্ত বয়সেও কেন ব্রণ হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে? জানুন সমাধানের উপায়

মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, নিহত ৩

ঢাবিতে ৫-দিনব্যাপী শহীদ ওসমান হাদি স্মৃতি বইমেলা শুরু

নোয়াখালীকে হারিয়ে লিটনদের প্রতিশোধ / তাওহীদ হৃদয়ে ম্লান নবীর ছেলের কীর্তি

ইডেন কলেজে নবীনদের বরণে আবহ ফাউন্ডেশনের ‘মেহেদী উৎসব’

দ্বিতীয় বিয়ে ধর্মের ব্যাখ্যা / নারী অধিকারের নিঃশব্দ লড়াইয়ের গল্প ‘হক’

খালেদা জিয়ার স্মরণে পাবনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিল 

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত 

খুলনার কপিলমুনিতে আরব আমিরাত সরকারের ত্রাণ ও কম্বল বিতরণ

সেনাবাহিনীর দখলে সিরিয়ার আরও এক শহর-বিমানবন্দর

১০

অবশেষে ভিসা পাচ্ছেন সাকিবরা

১১

মহিলা ভোটই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে : সালাম

১২

কঠিন বিপদের সময় দোয়া কবুল হয় যে আমলে

১৩

বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল

১৪

কী বার্তা দিচ্ছে মুশফিক-তাসকিনের দ্বন্দ্ব?

১৫

৪৭ আসনের সিদ্ধান্ত কবে, জানালেন এহসানুল মাহবুব

১৬

এনসিপি প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

১৭

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহতের আশঙ্কা

১৮

তারেক রহমানের হাত ধরেই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে : ফারুক

১৯

ভুয়া জরিপ আর মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু

২০
X