

বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তর সালে বাংলাদেশের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। যারা পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করেছিল, তারা এখন ভোটের জন্য এসেছে। তারা কখনো তাদের কৃতকর্মের জন্য মাফ চায়নি। সেই অবৈধ শক্তির হাতে দেশকে তুলে দিতে পারি না। তারা দেশের জন্য নিরাপদ নয়, মানুষের জন্য নিরাপদ নয়।
গতকাল রোববার বিকেলে সদরের গড়েয়া ইউনিয়নে একটি ইসকন মন্দিরের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সনাতন ধর্ম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ধর্মের কারণে মানুষে মানুষে বিভাজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবাই আগে বাংলাদেশি। এখানে সংখ্যায় বড় বা ছোট—এই বিভাজনের কোনো জায়গা নেই।
তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের পরও বাংলাদেশে সাম্য, সত্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে; কিন্তু সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। তবে আমার ধর্ম ও পারিবারিক শিক্ষা আমাকে শিখিয়েছে—সব ধর্মের মানুষকে সম্মান করতে। মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।
উপস্থিত ইসকন ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ সবার। আপনাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। সামনে নির্বাচন—ভয় পেলে চলবে না। সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে। বাংলাদেশকে এমন কারও হাতে তুলে দেওয়া যাবে না, যাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচন আমার জীবনের শেষ নির্বাচনও হতে পারে। এ সময় তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা ও ইসকন ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন