

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই আলোচনায় উঠে এসেছে সিটি করপোরেশন নির্বাচন। সেই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরেও শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এর মধ্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্তমান পর্ষদের (ষষ্ঠ) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি রোববার। বর্তমানে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে আগামী রোববার মেয়াদ শেষেও তিনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
তবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচনের তপশিলের আগ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। কালবেলাকে তিনি বলেন, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। মন্ত্রীও বলেছেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার আইনের ৬ নম্বর ধারা প্রযোজ্য হবে। যেহেতু নির্বাচিত মেয়র, তাই প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অফিসিয়াল অর্ডার দেওয়া হবে। তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি বা প্রেক্ষাপটে চসিকে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ নেই বলে সম্প্রতি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর আইনগত মতামতও তুলে ধরেন। যেখানে ডা. শাহাদাত হোসেনের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯-এর ৬ নম্বর ধারা (সংশোধন ২০১১) বলা আছে, ‘করপোরেশনের মেয়াদ হবে করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর। তবে শর্ত থাকে যে, সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তা পুনর্গঠিত সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবে।’ এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বর্তমানে কোনো কাউন্সিলর নেই। ষষ্ঠ পর্ষদের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর অপসারণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৯ সেপ্টেম্বর চসিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হলেও চসিক পরিচালনায় দুটো পথ খোলা আছে। একটি হচ্ছে—স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এর ৩৪ নং ধারা (২০১১ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী চসিকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া। এ ছাড়া একই আইনের ৬নং ধারা অনুযায়ী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন পর্ষদের (৭ম) প্রথম সভা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব পালন করার সুযোগ রয়েছে। তবে নতুন সরকারের কোন পলিসিতে সামনে এগোবে সেটাও এখনো স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন ও দায়িত্বশীলরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য বর্তমান মেয়র বহাল রাখার পক্ষে একমত মন্ত্রণালয়। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা পেলেই যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন বা অফিস আদেশ জারিও করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দুটি চিঠি দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনে।
বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচন আয়োজন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব আমরা নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’