মাসুদ রানা
প্রকাশ : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৫ এএম
আপডেট : ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

‘নিষিদ্ধ ওষুধের’ বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয় দুই শিশুর

চার্জশিট দাখিল
বিষক্রিয়ায় মৃত দুই শিশু শাহিল মোবারত জায়ান (৯) ও শায়েন মোবারত জাহিন (১৫)। ছবি: সংগৃহীত
বিষক্রিয়ায় মৃত দুই শিশু শাহিল মোবারত জায়ান (৯) ও শায়েন মোবারত জাহিন (১৫)। ছবি: সংগৃহীত

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় পরিবার নিয়ে বাস করতেন ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন তুষার। গত বছরের ২ জুন তার বাসায় তেলাপোকা মারার স্প্রে করে পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস কোম্পানি। পরে বিষক্রিয়ায় তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডিসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে ডিবি পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাদীর বাসায় অ্যালুমিনিয়াম ফসফেটসহ নানা ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এসব উপাদান বাসা-বাড়িতে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর গত শনিবার কালবেলাকে বলেন, নিষিদ্ধ ওষুধের বিষক্রিয়াতেই দুই শিশু মারা গেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণে পেনাল কোডের ৩০৪-ক ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। চার আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালেতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান, এমডি ফরহাদুল আমিন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মোসলেহ উদ্দিন শামীম ও স্প্রে ম্যান টিটু মোল্লা। প্রধান আসামি মোসলেহ উদ্দিন পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবহারে চেয়ারম্যান ও এমডির গুরুতর অবহেলা: চার্জশিটে বলা হয়, ডিসিএস অর্গানাইজেশনকে পেস্ট কন্ট্রোলের অনুমোদন দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। লাইসেন্স অনুযায়ী বড় পোশাক কারখানা, বীজগুদাম বা অনাবাসিক এলাকায় পেস্ট কন্ট্রোল করা যাবে; কিন্তু আসামিরা বাসায় এটি ব্যবহার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে লাইসেন্সে বাসা-বাড়িতে এটি ব্যবহারের কোনো অনুমোদন ছিল না। এ ছাড়া পেস্ট কন্ট্রোলের বিষয়ে লাইসেন্সে কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং এমডির তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনার কথা উল্লেখ থাকলেও তারা দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। ডিসিএস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান ও এমডি ফরহাদুল আমিনের সঙ্গে কথা বলে কর্মচারীরা বাদীর বাসায় পেস্ট কন্ট্রোল করেছে। তবে চেয়ারম্যান ও এমডির সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকা এবং অবহেলায় বাদীর বাসায় অ্যালুমিনিয়াম ফসফেট ব্যবহার করেন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। এতে বাদীর দুই সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

মিথ্যা আশ্বাসে দেরিতে চিকিৎসা, অতঃপর দুই শিশুর মৃত্যু: বাসা-বাড়িতে পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবহার করে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে ডিসিএস অর্গানাইজেশন। অন্যদিকে, দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন মোবারক হোসেন তুষার। এ সময় আসামি মোসলেহ উদ্দিন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও এমডির সঙ্গে আলোচনার পর তাকে জানান, কোনো সমস্যা হবে না। চিকিৎসারও তেমন প্রয়োজন নেই। তার মিথ্যা আশ্বাসে বাদী তার সন্তানদের যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে নেননি। ফলে দেরিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা হওয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পেস্ট কন্ট্রোল করা স্থান ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বায়ু চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। অথচ আসামি মোসলেহ উদ্দিন বাদীকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন, পেস্ট কন্ট্রোল করার ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর বাসায় অবস্থান করা যাবে। আসামি মোসলেহ বাদীকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২ জুন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোবারক হোসেন তুষারের বাসায় তেলাপোকার কীটনাশক দেন ডিসিএস অর্গানাইজেশনের কর্মীরা। তারা জানান, ৩-৪ ঘণ্টা পর বাসায় প্রবেশ করা যাবে। কীটনাশক দেওয়ার ৯ ঘণ্টা পর মোবারক তার স্ত্রী শারমিন জাহান ও সন্তানদের নিয়ে বাসায় আসেন। এরপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ৩ জুন সকাল ৭টা নাগাদ শারমিন ও তার দুই সন্তানের বমি শুরু হয়। তখন মোসলেহ উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি জানান, কীটনাশকে এলার্জি ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হবে না। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ালে দুই সন্তান কিছুটা সুস্থবোধ করে। কিন্তু পরদিন ৪ জুন ভোর ৪টার দিকে ছোট ছেলে শাহির মোবারত জায়ান অসুস্থবোধ করলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে বড় ছেলে শায়ান মোবারত জাহিন অসুস্থবোধ করলে তাকেও ওই হাসপাতাল নেওয়া হলে আইসিইউতে দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ৫ জুন ‘দায়িত্বে অবহেলাজনিত’ মৃত্যুর অভিযোগে মোবারক হোসেন রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন।

তিনি কালবেলাকে বলেন, কোনোভাবেই তো আমার দুই সন্তানকে ফিরে পাব না। এখন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ ধারায় যে সর্বোচ্চ সাজা রয়েছে, সেটা নিশ্চিত করা হোক। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে, যেন অন্য কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উপজেলার হাসপাতালগুলো ১০০ শয্যায় উন্নীতর পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

বাবাকে হত্যা করে আল কায়েদা, ভাই অপহৃত, বিশ্বকাপে তিনিই এখন ‘দেশের ভরসা’

‘ডিন’স অ্যাওয়ার্ড -২০২৬’ ব্যানারে বানান ভুল, জবিতে সমালোচনার ঝড়

হাম সন্দেহে ৪ জনের মৃত্যু

বিশাল জনসংখ্যাকে শিক্ষকেরাই মানবসম্পদে পরিণত করতে পারেন: শিক্ষামন্ত্রী

‘জনগণের হক আর কাউকে লুট করতে দেওয়া হবে না’

অর্থাভাবে মাকে সঙ্গে আনতে না পারা ভোজিনহার পাশে দাঁড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র!

কুমিল্লায় বিআরটিসি বাস দুর্ঘটনায় আহত ১০

শেষ জুটির ঝড়ে বাংলাদেশের ১৩১

যারা বাজেটকে জনবিরোধী বলেন তারা বন্ধু না : প্রধানমন্ত্রী

১০

চট্টগ্রামে ৪ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় মনিরের যাবজ্জীবন

১১

পাট ও বস্ত্র সচিব হলেন শরফ উদ্দিন

১২

১৬ বছর পরও থামেনি ট্রল, এবার মুখ খুললেন প্রভা

১৩

শঙ্কা মৎস্যমন্ত্রীর / দেশের প্রাকৃতিক মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে

১৪

ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভোজ্য তেল রপ্তানি চুক্তি

১৫

সিলেটের এমপিদের প্রধানমন্ত্রী / ‘সংসদ চলছে, আপনারা সংসদে যান’

১৬

৪৩ ড্রাম অবৈধ চিংড়ির রেনু জব্দ

১৭

হ্যাটট্রিকের পর মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা স্ত্রীর

১৮

রূপগঞ্জে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ

১৯

মেসিকে নিয়ে তারকাদের উচ্ছ্বাস

২০
X