শেখ হারুন
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৫৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কপি-পেস্ট ডিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ

জবাবদিহি না থাকায় চ্যালেঞ্জের ঘুরপাকে এডিপি
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দেশের উন্নয়নযাত্রায় অন্যতম বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও ব্যয় বৃদ্ধি। সময়মতো প্রকল্প শেষ না হওয়া, ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়া এবং বাস্তবায়নের মেয়াদ একাধিকবার বৃদ্ধি এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণও প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে না সময়মতো। উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন না হওয়ার পেছনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়ন। আর দুর্বল ডিপিপি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রভাবকগুলো হলো দক্ষ জনবল ঘাটতি, সমন্বয়ের অভাব, দীর্ঘসূত্রতা এবং কপি-পেস্টের সংস্কৃতি। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই রয়েছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, যা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি এসব সংকট উত্তরণের সুপারিশও করা হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে চ্যালেঞ্জগুলোর তথ্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি। প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন এবং শেষ পর্যায়ে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের এডিপি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্বল ডিপিপি প্রণয়ন, যা প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়নের অন্তরায়। অন্য প্রকল্পের ডিপিপি অনুকরণে কপি-পেস্ট করে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কারণে উদ্দেশ্য এবং বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিল থাকে না। যে কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ডিপিপি প্রণয়নে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা থাকে না। শুধু দায়সারা মনোভাবে অন্য প্রকল্পের ছক হুবহু কপি-পেস্ট করে নতুন ডিপিপি তৈরি করেন। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশাগত জটিলতা দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়, ফলে বাস্তবায়নের সময় ঘন ঘন সংশোধন দরকার পড়ে।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ বলেন, ‘বাস্তব প্রয়োজন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই প্রকল্প প্রণয়ন হওয়ার কথা। কিন্তু হুবহু কপি-পেস্ট করলে তা কোনো প্রকল্পই হয় না। এমনভাবে প্রকল্প তৈরি হলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে জটিলতা তো হবেই।’

কপি-পেস্টের মাধ্যমে ডিপিপি তৈরিসহ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৯টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে আইএমইডি। এসব চ্যালেঞ্জের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে এডিপির বাস্তবায়ন। চিহ্নিত চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন পর্যায়ে ১১টি, বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১২টি এবং প্রকল্পের শেষে ৬টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জের কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না, বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে প্রকল্পের কাজ। বাড়ছে মেয়াদ ও ব্যয়।

অনুমোদন পর্যায়ে ১১ চ্যালেঞ্জ: আইএমইডির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকল্প প্রস্তাব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতার মধ্যে রয়েছে পরিকল্পনা দলিলের সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা। ডিপিপিতে অনেক সময় সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা দলিলের লক্ষ্য অর্জনে প্রকল্পের অবদান সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকে না। আবার সুবিধাভোগীদের চাহিদা যাচাই না করে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যার ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না।

ভূমি অধিগ্রহণ ও আর্থিক দুর্বলতা প্রকল্পের অন্যতম চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে একটি। প্রকল্প গ্রহণের আগে ভূমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক সম্মতি না নেওয়া এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সঠিকভাবে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এসব কারণে বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এ ছাড়া রয়েছে—প্রকল্প তৈরির সময় রেজাল্ট ফ্রেমওয়ার্ক ও লগ ফ্রেম ওয়ার্ক ঠিকভাবে না করা, এমটিবিএফর আর্থিক সীমা অনুসরণ না করা এবং প্রকল্পের ফল টেকসই করতে পরিকল্পনা সঠিকভাবে তৈরি না করার চ্যালেঞ্জ। আরও আছে ভৌত কাজের ডিজাইন পরিবর্তন, বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত না করেই প্রকল্প অনুমোদন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্পের দ্বৈততা।

বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১২ চ্যালেঞ্জ: বাস্তবায়ন পর্যায়ের অন্যতম চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রকল্প অনুমোদনের পর সময়মতো পরিচালক নিয়োগ না হওয়া, একই কর্মকর্তা একাধিক প্রকল্পের পরিচালক হওয়া এবং ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে সময়ক্ষেপণ। অধিকাংশ প্রকল্প পরিচালক পূর্ণ সময়ের বদলে আংশিক সময় কাজ করেন, ফলে বাস্তবায়ন মন্থর হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক সময় স্বচ্ছতা থাকে না এবং নিয়মিত পিআইসি ও স্টিয়ারিং কমিটির সভা হয় না। যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া প্রকল্প সংশোধনী প্রস্তাব আইএমইডি বা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো এবং প্রকল্প প্রস্তাবে দেওয়া কর্মপরিকল্পনা ও ক্রয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করার মতো চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রয়েছে প্রকল্পের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য সঠিক-কার্যকর পরিকল্পনা ও তা পরিবীক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার মতো প্রতিবন্ধকতা।

কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের কাজ শেষ না করে বারবার সময় বৃদ্ধির আবেদন জানায়, এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। একইভাবে ইউটিলিটি স্থানান্তর, পুনর্বাসন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আরও আছে পিইসি ও পিএসসি সভা ছাড়াই প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব ও একজন কর্মকর্তার একাধিক প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা। প্রকল্প এলাকায় পরিচালকের অবস্থান না করা এবং আইএমইডির সুপারিশ বাস্তবায়ন বা ফলোআপ না করার প্রতিবন্ধকতাও উল্লেখযোগ্য।

বাস্তবায়ন পরবর্তী পর্যায়ের ৬ চ্যালেঞ্জ: প্রকল্প শেষে চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে—আইন থাকলেও তিন মাসের মধ্যে সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) জমা না দেওয়া, প্রকল্প থেকে শেখা অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কাজে না লাগানো, রক্ষণাবেক্ষণে রাজস্ব বাজেট না থাকা, প্রকল্প শেষে ফল স্থায়ী করার ব্যবস্থা না নেওয়া এবং সরকারি পরিবহন পুলে যানবাহন জমা দিতে বিলম্ব। এসব কারণে তথ্য সংরক্ষণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ব্যাহত হয়।

অর্থনৈতিক প্রভাব: যথাযথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। সময়ক্ষেপণ ও সংশোধনের কারণে প্রকল্প খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়, যা বাজেটে চাপ তৈরি করে। অবকাঠামো ও সেবামুখী প্রকল্প বিলম্বিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ খাতে প্রকল্প বিলম্বের কারণে জনগণ দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকে।

আইএমইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছর তারা শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেই দায়িত্ব শেষ করেননি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেসব বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এরই মধ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সুপারিশ অনুযায়ী চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করলে প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা কমে যাবে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ, যা দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণের সমাধান করতে হবে। কপি-পেস্ট ডিপিপি সংস্কৃতি দূর করে দক্ষ জনবল তৈরি, কঠোর জবাবদিহি এবং ভূমি অধিগ্রহণ ও সমন্বয় সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে প্রকল্প বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ কালবেলাকে বলেন, ‘এসব সংকটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশনেরও ব্যর্থতা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আইএমইডি শুধু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে, কিন্তু সমাধানে অ্যাকশন (পদক্ষেপ) নেওয়ার ক্ষমতা পরিকল্পনা কমিশনের। তারা চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ডেকে নির্দেশনা দিতে পারে এবং বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই পরিকল্পনা কমিশনের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।’

আর অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মূল সমস্যা জবাবদিহির অভাব। যতই চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত হোক বা সুপারিশ করা হোক না কেন, জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে কোনো লাভ হবে না। যার যেমন ইচ্ছা সে তেমন কাজ করবে। আইএমইডি সমস্যা তুলে ধরবে, আমরা সমাধানের বিষয় বলে যাব, আর গণ্যমাধ্যম লিখে যাবে; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রায় পড়া চলছে

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আদালত প্রাঙ্গণে যেসব দাবি জানাচ্ছেন রায় শুনতে আসা মানুষ

মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা 

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা / দীপু মনি-ফারজানা রূপাসহ ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির

বিশ্বকাপ ভিসা প্রত্যাখ্যান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা ইরানের

ট্রেনের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

এক কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের বাধা অতিক্রমের গল্প

খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

আবাসিক হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, বোরকা পরা নারীকে খুঁজছে পুলিশ

১১টায় রায় ঘোষণা, একটি ন্যায়বিচারের জন্য উন্মুখ পুরো জাতি

১০

ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ধনকুবের

১১

ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ধসে জনদুর্ভোগ চরমে

১২

ধান কাটতে বলায় গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে হত্যা

১৩

মেট্রোরেল নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, আজ থেকেই কার্যকর

১৪

বিসিবিতে আজ আমেজহীন আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার নির্বাচন

১৫

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ মামলা: ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন আজ

১৬

রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

জব্দ ইরানি অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত মিত্র দেশগুলোকে দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

১৮

তরুণীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

১৯

আলোচিত মামলার রায় শোনার অপেক্ষায় জাতি, আদালতে সোহেল-স্বপ্না

২০
X