কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অঙ্গচ্ছেদের শিকার শিশু এখন গাজায়

ত্রাণবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় ইতালি-স্পেনের যুদ্ধজাহাজ
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অঙ্গচ্ছেদের শিকার শিশু এখন গাজায়

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ ভূখণ্ডটি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অঙ্গচ্ছেদ হওয়া শিশুর ঠিকানা হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধানের বরাত দিয়ে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় মোট ৪ হাজারের মতো অঙ্গচ্ছেদের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লাজারিনি এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘শিশুদের ওপর (যুদ্ধের) প্রভাব শুধু ক্ষুধা বা শারীরিক আঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের ক্ষত গভীর ও অদৃশ্য। এর মধ্যে আছে উদ্বেগ, দুঃস্বপ্ন, আক্রমণাত্মক আচরণ ও ভয়। অনেক শিশুকে ভিক্ষা, চুরি বা শিশুশ্রমে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি এক হারানো শৈশব।’

ইউএনআরডব্লিউএর কমিশনার আরও বলেন, যত দীর্ঘ সময় ধরে এ অবস্থা চলবে, শিশুরা ততই তাদের চলমান ও গভীর ট্রমার ছায়ায় প্রজন্ম ধরে ভুগবে। অন্তত শিশুদের স্বার্থে হলেও গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে বলে সম্প্রতি জাতিসংঘের তদন্তকারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর পরই ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাটি গাজার শিশুদের ওপর যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিল।

ত্রাণবাহী জাহাজের নিরাপত্তায় ইতালি-স্পেনের যুদ্ধজাহাজ: ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার পর এর সুরক্ষায় ভূমধ্যসাগরে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে ইতালি ও স্পেন। প্রায় ৫০টি বেসামরিক জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরে রয়েছেন আইনজীবী, সংসদ সদস্য এবং কর্মীসহ বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি। এই বহরে সুইডেনের জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও রয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রসেত্তো বৃহস্পতিবার জানান, একটি ইতালীয় জাহাজ এরই মধ্যে ত্রাণবহরের দিকে রওনা দিয়েছে এবং আরেকটি জাহাজ পথে রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই পদক্ষেপটি মূলত ত্রাণবহরে থাকা ইতালীয় নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি একই সঙ্গে কর্মীদের প্রতি এই অবরোধ ভাঙার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান।

ত্রাণবাহী জাহাজের বহরের নিরাপত্তায় যুদ্ধজাহাজ পাঠনোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ইতালির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এটি কোনো যুদ্ধাভিযান বা উসকানি নয়, বরং এটি একটি মানবিক কাজ, যা একজন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের কর্তব্য।’

ত্রাণবহরের ওপর ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার প্রথম ইতালীয় ফ্রিগেটটি পাঠানো হয়। ত্রাণবহরটি তখন গ্রিসের গাভডোস দ্বীপ থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল (৫৬ কিলোমিটার) দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল। ফ্লোটিলা জানায়, তাদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে কেউ আহত না হলেও জাহাজের কিছু ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, স্পেনও ঘোষণা করেছে যে তারা বৃহস্পতিবার একটি সামরিক যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্লোটিলাকে সহায়তা করার জন্য। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে এমন পদক্ষেপ একেবারেই নজিরবিহীন। এর আগে গাজার নৌ-অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা ত্রাণবহরকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বল প্রয়োগ করে থামিয়ে দিয়েছিল। ২০১০ সালে এমন একটি মিশনে অংশ নেওয়া তুরস্কের ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে ইসরায়েলি কমান্ডোদের হামলায় ১০ জন তুর্কি কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

ত্রাণবাহী জাহাজ নিয়ে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া: ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন হামলার অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেছে, ফ্লোটিলা মানবিক সহায়তা ইসরায়েলের কাছাকাছি কোনো দেশের বন্দরে নামিয়ে দিলে তারা তা গাজায় পৌঁছে দেবে। মন্ত্রণালয় এক্সে (আগের টুইটার) লিখেছে, ‘ইসরায়েল সক্রিয় যুদ্ধ অঞ্চলে কোনো জাহাজকে প্রবেশ করতে দেবে না এবং বৈধ নৌ-অবরোধ লঙ্ঘন করতে দেবে না। ত্রাণবাহী জাহাজগুলোর গাজামুখী যাত্রা সহায়তা নাকি উসকানি—সেই প্রশ্নও তুলেছে ইসরায়েল।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অবরুদ্ধ গাজাজুড়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় আরও অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত এই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৫০২ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৬ জন। হতাহতের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন হতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নেতানিয়াহুর: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি কোনোভাবেই ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন হতে দেবেন না। এ ছাড়া তার মন্ত্রিসভার কট্টর ডানপন্থি সদস্যরা পশ্চিম তীর দখল করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যাতে প্রকৃত স্বাধীনতার সম্ভাবনাও নষ্ট হয়। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বেশকিছু দেশ রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এলো।

‘পশ্চিম তীর দখল করার বিরোধিতায় একমত ট্রাম্প’: রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সঙ্গে পশ্চিম তীর দখল করার বিরোধিতায় একমত হয়েছেন। ফ্রান্স ২৪ এবং রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া এক যৌথ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে যা বলেছেন, তা হলো— ইউরোপীয় এবং আমেরিকানদের অবস্থান একই।’

যুদ্ধ শেষ করতে ২১ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন ট্রাম্পের: এদিকে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, ট্রাম্প আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ২১ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। কনকর্ডিয়া সম্মেলনে স্টিভ উইটকফ বলেন, ‘আমি মনে করি এই পরিকল্পনা ইসরায়েলের উদ্বেগ যেমন সমাধান করবে, তেমনি পুরো অঞ্চলের প্রতিবেশীদের উদ্বেগও দূর করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, বরং আমি বলব আত্মবিশ্বাসী যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা কোনো ধরনের সাফল্য ঘোষণা করতে পারব।’ এ ছাড়া এই সংঘাত দ্রুত সমাপ্ত হোক—এমনটাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান বলেও বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরীক্ষার কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবিতে সড়ক অবরোধ

বন্ধুদের ঈদে জমানো টাকায় আর্জেন্টিনার পতাকায় সেজেছে গোটা লঞ্চঘাট

যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

অবশেষে পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে ফেরত নিলো বিএসএফ

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু

১১ জেলার সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার মোতায়েন

দেশের বাজারে কত দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি খুব কাছে : ট্রাম্প

দুই ভূমি অফিসে হঠাৎ হাজির প্রতিমন্ত্রী, দেখতে পেলেন নানা অনিয়ম

৪৮ ঘণ্টা পর শূন্যরেখা থেকে ১১ জনকে সরিয়ে নিলো বিএসএফ

১০

বড় ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ছোট ভাইয়ের

১১

জাবিতে নতুন দুই উপ-উপাচার্যের যোগদান

১২

হামে শিশু মৃত্যু / ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

১৩

বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা দিবস পালন করল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস

১৪

হোটেলে সাবেক ইউপি সদস্যের মরদেহ, সেই নারী পুলিশ হেফাজতে

১৫

আরেক দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১৬

যে কারণে রোগী প্রতিদিন হাসে, কিন্তু আনন্দ পায় না

১৭

ডলারকে আমি চিনি : রামিসার বাবা

১৮

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

১৯

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

২০
X