

একসময় সৌরজগতের নবম গ্রহ হিসেবে পরিচিত ছিল প্লুটো। ১৯৩০ সালে আবিষ্কারের পর ৭০ বছর এটি সৌরজগতের শেষ সীমানার প্রতীক হয়ে থাকলেও ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়নের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে প্লুটো তার গ্রহের মর্যাদা হারায়। সেই সময় বামন গ্রহের শ্রেণিতে প্লুটোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ সিদ্ধান্ত শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যেই নয়, সাধারণ মানুষের মাঝেও ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
২০০৬ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো গ্রহের আনুষ্ঠানিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন। সেখানে বলা হয়, গ্রহ হতে হলে অবশ্যই তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। বস্তুটিকে অবশ্যই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে হবে। এ ছাড়া বস্তুটির নিজস্ব মহাকর্ষ বলের কারণে প্রায় গোলাকার আকৃতি থাকতে হবে। প্লুটো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার পাশাপাশি গোলাকার আকৃতির হওয়ায় দুটি শর্ত পূরণ করলেও শক্তিশালী কক্ষপথ অনুসরণ না করায় তৃতীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, প্লুটো সূর্যের বাইরে বরফ ও শিলায় ভরা কুইপার বেল্ট অঞ্চলে অবস্থান করছে। সেখানে অসংখ্য ছোট বস্তু প্লুটোর সঙ্গে কক্ষপথ ভাগ করে নেয়, ফলে প্লুটোর ভর ও আকর্ষণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। বিপরীতে পৃথিবীর মতো গ্রহ তাদের কক্ষপথের প্রায় সব বস্তু আকর্ষণ বা বিতাড়িত করে নিজেদের মহাকর্ষীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখে, যা প্লুটো করতে পারেনি।
যেসব মহাজাগতিক বস্তু প্রথম দুটি শর্ত পূরণ করে কিন্তু কক্ষপথে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না। সেগুলোকেই বলা হয় বামন গ্রহ। বর্তমানে প্লুটো ছাড়াও এরিস, সেরেস, হাউমেয়া ও মেকেমেকে এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত।
গ্রহের এই বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস জ্যোতির্বিজ্ঞানকে আরও সুসংগঠিত এবং সৌরজগতের কাঠামো সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া গভীর করেছে। যদিও প্লুটো এখন আর নবম গ্রহ নয়, তবু বামন গ্রহ হিসেবে এটি এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্যময় ও গুরুত্বপূর্ণ জগৎ। সূত্র: নাসা