কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যবসায়ীকে নির্যাতনের ভয়ংকর তথ্য এসপি রিয়াজের বিরুদ্ধে

হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ার ক্ষোভ
এসপি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ (বামে) ও র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন
এসপি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ (বামে) ও র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন

পরিচয়ের সূত্র ধরে আইটি ব্যবসায়ী ও সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট তাজুল ইসলাম রুমেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয় এসপি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের। সেই সুবাদে ধাপে ধাপে ৩৫ লাখ টাকা নেন রুমেলের কাছ থেকে। কিন্তু ৫ লাখ ফেরত দেওয়ার পর বাকি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধে টালবাহানা শুরু করেন রিয়াজ উদ্দিন। ওই টাকার বিনিময়ে রুমেলের কেয়ারটেকারের মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু চাকরিও দেননি সেই পুলিশ কর্মকর্তা। টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে সময়ক্ষেপণ শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৩০ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয় রুমেলকে। কিন্তু ওই অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় চেক ডিজঅনার হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ফের টাকা চাইলে রুমেলের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন শুরু হয়। যার মধ্যে ছিল দুই দফা অপহরণ, মাদক কারবারি সাজিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং গ্রেপ্তারের আগে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। অপহরণের পর পরিবারের সদস্যরা থানায় মামলা করতে গেলে জিডিও গ্রহণ করেননি পুলিশ।

এসব ঘটনা ঘটেছে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের নিয়ে এমন অপকর্মে জড়িয়েছিলেন এসপি রিয়াজ উদ্দিন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এসপি রিয়াজসহ র‍্যাব-পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী রুমেল। ওই মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয় অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। সিআইডির তদন্তে মাদকসহ কোনো অপরাধেই রুমেলের সংশ্লিষ্টতার আলামত মেলেনি। মামলার নথি বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য উঠে আসে।

রিয়াজ উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির প্রভাব খাঁটিয়ে নানান সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। কালবেলার হাতে আসা আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের একটি ডিও লেটার সূত্রে জানা গেছে রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো চিঠিতে লিখেছেন, ‘জনাব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, পিপিএম বিপি: ৭৮০৫১১০১২৭ পুলিশ সুপার। তিনি আমার নির্বাচনী এলাকার একজন সৎ, দক্ষ ও পরিশ্রমী কর্মকর্তার পাশাপাশি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। আমি তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। বর্তমানে তিনি আমার নির্বাচনী এলাকা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, খুলনায় উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত আছেন। এমতাবস্থায়, জনাব রিয়াজ উদ্দিন আহমেদকে, পিপিএমকে পুলিশ সুপার হিসেবে আমার নির্বাচনী এলাকা খুলনা জেলা অথবা মৌলভীবাজার জেলায় বদলী/পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।’

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানান ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে এসপি রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে ভুক্তভোগী আইটি ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম রুমেল তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। মামলায় ২৪তম বিসিএএসের পুলিশ কর্মকর্তা এসপি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যতম আসামি র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমনসহ আসামিদের তালিকায় রয়েছেন র‍্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের এসআই খন্দকার আলম, র‍্যাব-১ এর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার ইকবাল হোসেন (রুমেলের বিরুদ্ধে সাজানো মামলার বাদি) এবং এএসআই অমিত সাহা। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়।

এজহার সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে দুই দফায় রুমেলকে র‍্যাব কার্যালয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। তখন রিয়াজ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনারের (প্রসিকিউশন) দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় উল্টো রুমেলের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করা হয়। জিম্মি করে জোরপূর্বক রুমেলের কাছ থেকে এই মর্মে স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়, ‘রুমেলের কাছে এসপি রিয়াজ উদ্দিনের ২২ লাখ টাকা পাওনা আছে।’ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টের পর রিয়াজকে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার হিসাবে বদলি দেয়া হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। সবশেষ তাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়।

এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বলেন, ‘বদলি কীভাবে শাস্তি হয়? বদলি কোনো শাস্তি না। তকে কেবল গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসপি রিয়াজ ও তার সহযোগীরা কেবল আমাকে নয়, অপহরণ করে আয়নাঘরে নিয়ে আরও অনেকের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। তাদের হাতে অনেকের প্রাণ গেছে। বিনা অপরাধে দুই দফায় আমাকে তুলে নেওয়া হয়। তারপর আয়নাঘরে চালানো নির্যাতন ও কারাগারে আটক রাখার ঘটনায় সামাজিক, মানসিক ও অর্থিকভাবে আমার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। রিয়াজসহ জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক সাজা দাবি করছি।’

রুমেল আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানসহ জামায়াত ও বিএনপি এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন সমর্থকের সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলে রিয়াজ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা সন্দেহে রিয়াজ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তভোগীর বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করা হয়।

প্রথম দফায় অপহরণের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রুমেল বলেন, জীবনের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে তখনই, যখন আমার মাত্র ১১ দিনের শিশুসন্তান আমার বুকে শুয়ে ছিল। বাবা-ছেলের সেই নিরুপম আলিঙ্গনের মাঝেই রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ দরজার কলিং বেল বেজে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই ১০ থেকে ১২ জন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে। পুরো পরিস্থিতি যেন কোনো ভয়াবহ চলচ্চিত্রের দৃশ্য। তারা নির্মমভাবে শিশুটিকে সরিয়ে দিতে বলে এবং এমন আচরণ করে, যেন আমরা মানুষই নই।

আইটি খাতের ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম রুমেল কালবেলাকে বলেন, ‘নিজের (এসপির) অসুস্থতা, আমাকে সফটওয়্যার ব্যবসার কাজ দেওয়া ও আমার বাসার কেয়ারটেকারের মেয়েকে পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোট ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়েছেন তিনি। কিন্তু টাকার বিনিময়ে কোনো সুবিধা দিতে পারেননি। চাপের মুখে ৫ লাখ টাকা ফেরত দেন। বাকি ৩০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় আমি চেক ভাঙাতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি (এসপি রিয়াজ) বলেন, ‘আমি সহসাই সিলেট বিভাগের কোনো একটি জেলায় এসপি হিসেবে পদায়ন পাব। তোমার পরিচিত কোনো এমপি-মন্ত্রী থাকলে আমাকে একটু পরিচয় করিয়ে দাও। আমি এসপি হিসেবে পদায়ন পাওয়ার পরই তোমার পাওনা টাকা ফেরত দেব।’

রুমেল বলেন, ‘এভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলে টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে টালবাহানা করতে থাকেন। এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ায় রিয়াজ আমাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই আমাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়। তুলে নেওয়ার সময় আমার স্ত্রী ও মাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। বাসায় থাকা সবার মোবাইল ও সিসিটিভি ক্যামেরাসহ অন্যান্য ডিভাইস নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ডিভাইসে এসপি রিয়াজের সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথন ও আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ছিল। আমাকে তুলে নেওয়ার পর র‍্যাবের আয়নাঘরে থাকা অবস্থায় এসব আলামত মুছে ফেলা হয়।’

এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এসপি রিয়াজ উদ্দিন ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমনের নির্দেশে র‍্যাব কর্তৃক আমাকে অপহরণের পর একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের সময় বলেছিলেন, এসপি রিয়াজ ও একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তার তথ্যে তোকে আটক করা হয়েছে। তোর বিরুদ্ধে লন্ডনে তারেক রহমান ও বিএনপি-জামায়াতকে তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।’

রুমেল আরও বলেন, ‘নির্যাতনের একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ওই সময় তারা আমার ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন। ওইসময় এসপি রিয়াজ ভিডিও কলে আমার কাছে ২২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে লিখিয়ে নেন রিয়াজ উদ্দিন আমার কাছে ২২ লাখ টাকা পাবে। এরপর রাতভর নির্যাতন করে পরদিন আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

আয়না ঘরে নির্যাতনের দ্বিতীয় ঘটনা উল্লেখ করে রুমেল বলেন, ‘২০২৩ সালের ২২ আগস্ট রাতে বনশ্রী থেকে উবারে বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ দুটি মোটরসাইকেলে ৬ জন ও একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাস এসে চোখ বেঁধে তুলে নেয়। কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরে র‍্যাব অফিসে নিয়ে শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। ওই সময় ভিডিও কলে আমাকে ক্রসফায়ারে দিতে বলেন এসপি রিয়াজ। মেজর পদবির এক কর্মকর্তা ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করে বলেন, তার (রুমেল) ১১ দিনের বাচ্চা আছে। রুমেলের অতীত রেকর্ড (পিসিপিআর) ভালো। তাকে যেকোনা একটি মামলা দিয়ে চালান করে দেন।’

‘‘এ কথা শুনে এসপি রিয়াজ বলেন, ‘শালাকে ফেলে দেন, এটা আমার জন্য ডিস্টার্ব।’ এরপরই শুরু হয় অমানুষিক নির্যাতন। এমন একটি ঘরে নেওয়া হয় সেখানে আরও দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। একজনের মাথায় গুলির চিহ্ন অন্যজনের হাত-পা কাটা ছিল। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আমার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তারা আমাকে ওষুধ ও পানি দেয়। একটু সুস্থ হলে মাদক কারবারি সাজিয়ে বিমানবন্দর থানায় এক হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে সাজানো মামলা দেয়। ফাঁসানোর কাজটি করেন মামলার বাদী র‍্যাব-১ এর তৎকালীন ওয়ারেন্ট অফিসার ইকবাল হোসেন ও এসআই (নিরস্ত্র) অমিত সাহা। ওই মামলায় আমার প্রায় দুই মাস জেল খাটতে হয়’’ -বলেন রুমেল।

এ বিষয়ে মামলার আসামি ও র‌্যাব-১ এর তৎকালীন ওয়ারেন্ট অফিসার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ওই সময় আমি সিনিয়র অফিসারের নির্দেশে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলাম। তখন থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে রুমেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তারাই (তৎকালীন র‍্যাবে সিনিয়র কর্মকর্তা) ঠিক করে দিয়েছিলেন। তার (রুমেল) সঙ্গে এক কর্মকর্তার বিরোধিতা ছিল, সেটা আমি তখন জানতে পারিনি।’

এদিকে সেই মামলার বাদী র‍্যাবের তৎকালীন ওয়ারেন্ট অফিসার ইকবাল হোসেন ও ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম রুমেলের একটি অডিও রেকর্ড কালবেলার হাতে এসেছে। অডিও রেকর্ডে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এই মামলাটি সিনিয়র অফিসারদের চাপে পড়ে করেছি। ঘটনাটি ছিল সাজানো। মামলাটি যখন সাক্ষ্য পর্যায়ে যাবে তখন এমনভাবে সাক্ষ্য দেব, যাতে বিষয়টি আপনার পক্ষে যায়। কারণ আমিও চাই না একজন নিরপরাধ মানুষের শাস্তি হোক। র‍্যাবে থাকলে এমন অনেক কাজ করতে হয়, যেগুলো আমার পছন্দ না।’

এ বিষয়ে জানতে এসপি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। এ জন্য আমার জীবন তছনছ হয়ে গেছে। আমি তাকে নির্যাতন করেছি, এ জন্য আমাকে মাফ করবেন। আর তিনি যেহেতু আমার নামে মামলা করেছেন, ওই মামলার রেজাল্ট আসুক।’

সিআইডি সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় রুমেলকে গ্রেপ্তারের স্থান দেখানো হয়েছে এয়ারপোর্ট এলাকা। কিন্তু ওই সময় রুমেলের অবস্থান ছিল বনশ্রী এলাকায়। তার কাছ থেকে জব্দ করা দুটি মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় বিষয়টি জানা যায়।

সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আফতাব উদ্দিনের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০২৩ সালের ২২ আগস্ট রাত ১০টা ০৫ মিনিটে বিমানবন্দর থানাধীন বিমানবন্দর গোল চত্বর এলাকায় ওয়ান্ডার ইন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনফেকশনারি দোকানের সামনে র‍্যাবের হাতে আটক হওয়ার সময় জব্দকৃত নম্বরের সিমযুক্ত মোবাইলের লোকেশন ছিল রামপুরা এলাকার বনশ্রী হাউজিং। এছাড়াও পরীক্ষাকালে আলামত দুটি মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মাদক ব্যবসা সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে সিআইডি পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মামলাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চিঠি দিয়েছি। তারা এখনো আসেননি। প্রয়োজনের আবারও চিঠি দেওয়া হবে। বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ায় আরও এক শিশুর মৃত্যু

‘শান্তিরক্ষীরা জীবন বাজি রেখে দেশের সম্মান রক্ষা করছেন’

যুবদলের কমিটি নিয়ে ক্ষোভ, গুলশানে পদবঞ্চিতদের অবস্থান কর্মসূচি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, এসএসসি পাসেই আবেদন

সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

ইরান ও ইসরায়েলকে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

বিগত বছরের তুলনায় কমেছে অপরাধের সংখ্যা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালাল ইসরায়েল

এক দিনে হাম ও উপসর্গে ৮ মৃত্যু

১০

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪৭

১১

নৌবাহিনীতে চাকরির সুযোগ, পদ ২১৪

১২

বলিউডের বৈষম্য ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন তাপসী পান্নু

১৩

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টোল আদায়ের বৈধতা দিলেন পৌর প্রশাসক

১৪

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিল সরকার

১৫

শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শিগগিরই, হাইকোর্টে পৌঁছেছে পেপারবুক

১৬

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

১৭

মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু

১৮

স্ত্রীর সামনে প্রস্রাব করার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

১৯

আবারও রিয়ালের সভাপতি পেরেজ, কোচ হয়ে ফিরছেন মরিনহো

২০
X