

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় হলেও খুলনা বিভাগে বাজিমাত করেছে জামায়াতে ইসলামী। বিভাগের ৩৬ আসনের মধ্যে ২৫টিতেই জয় পেয়েছে দলটি। অন্যদিকে, বিএনপি পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। তবে হেবিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত সনাতনী প্রার্থী কৃষ্ণনন্দীর হেরে যাওয়া অন্যতম অঘটন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভাগের বেশিরভাগ আসনেই জামানত হারিয়েছে সারা দেশে এককভাবে নির্বাচন করা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
খুলনার ৬টি আসনের চারটিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত: খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। এই আসনে নির্ধারিত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবু সাইদ।
খুলনা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। এই আসনে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্লাহ।
খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৮ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির আব্দুল আউয়ালের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুচ আহমেদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনা-৫ আসনে আলী আসগর লবি ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট।
খুলনা-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের আসাদুল্লাহ ফকির জামানত হারিয়েছেন।
বাগেরহাটের তিনটিতে জামায়াত, একটিতে বিএনপি: বাগেরহাট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট পেয়েছেন। বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শেখ জাকিরুল ইসলাম ৬৬ হাজার ৩৯৯ ভোট পেয়েছেন। বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট পেয়েছেন। বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াতের অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সোমনাথ দে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট। এসব আসনেও ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থী তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
নড়াইলের দুটির একটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত: নড়াইলের দুটি আসনের একটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয় পেয়েছেন। নড়াইল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। নড়াইল-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী আতাউর রহমান বাচ্চু ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) মনিরুল ইসলাম ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী ড. এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট।
যশোরের ৬ আসনের ৫টিতে জামায়াত, ১টিতে বিএনপি জয়ী: যশোর-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট।
যশোর-২ আসনে জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সাবিরা সুলতানা ওরফে সাবিরা সুলতানা মুন্নি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩১ ভোট। যশোর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের আব্দুল কাদের ওরফে ভিপি কাদের পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৯ ভোট। যশোর-৪ আসনে জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রসুল ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৬ ভোট। যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫ ভোট। বিএনপির প্রার্থী রশীদ আহমাদ ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। যশোর-৬ আসনে জামায়াতের অধ্যাপক মোক্তার আলী ৯২ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৫৯ ভোট।
চুয়াডাঙ্গার দুটিতেই জামায়াতের প্রার্থী জয়ী: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল ২ লাখ ১১ হাজার ১৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের শরীফুজ্জামান পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৮ ভোট। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন ২ লাখ ১০ হাজার ১১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মাহমুদ হাসান খান বাবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯৯ ভোট।
মেহেরপুরের দুটিই জামায়াতের ঘরে: মেহেরপুর-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী তাজউদ্দীন আহমেদ খান ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাসুদ অরুণ পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ আসনে জামায়াতের নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট।
ঝিনাইদহে বিএনপির ‘দুর্গ’ ভাঙল জামায়াত: জেলার চারটি আসনের তিনটিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একটি গেছে বিএনপির ঘরে। ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের আলী আজম মো. আবু বকর ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট। ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির মোহাম্মদ মেহেদী হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট। ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতের আবু তালিব ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খান ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন।
সাতক্ষীরার চারটিতেই জামায়াত: সাতক্ষীরা-১ আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের ইজ্জত উল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী মুহাদ্দিস আবদুল খালেক ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৯ ভোট। সাতক্ষীরা-৩ আসনে ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে জামায়াতের হাফেজ মুহা. রবিউল বাসার। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট।
মাগুরার দুটি আসনেই বিএনপি: মাগুরা-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবদুল মতিন পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৮২ ভোট। মাগুরা-২ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুশতারশেদ বিল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।
কুষ্টিয়ার তিনটিতে জামায়াত, একটিতে বিএনপি জয়ী: কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা বেলাল উদ্দীন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৫ হাজার ভোট। কুষ্টিয়া-২ আসনে প্রায় ৪৬ হাজার ৫৩৪ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির রাগীব রউফ চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল গফুর। কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের মুফতি আমির হামজা ১ লাখ ৮২ হাজার ৪৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. জাকির হোসেন সরকার ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৯ ভোট পেয়েছেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে জামায়াতের আফজাল হোসেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট।