সুশোভন অর্ক
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৫ এএম
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ওদের ঘরে নেই ঈদ আনন্দ

আড়াই বছরের ছেলেটা শুধু তার বাবাকে খোঁজে

আড়াই বছরের ছেলেটা শুধু তার বাবাকে খোঁজে

‘আমার সাড়ে ৬ বছরের মেয়েটা একটু পরপর এসে শুধু বলে, বাবা কী ঈদের আগে আসবে নাকি পরে। আমার ঈদের জামাটা আগেই পাঠিয়ে দিতে বলো। আগে তো ঈদের আগেই আব্বু জামা-কাপড়, জুতা কত কিছুই দিত। এবার কখন দেবে। আমি মেয়েকে কোনো উত্তর দিতে পারি না। আড়াই বছরের ছেলেটা শুধু তার বাবাকে খোঁজে। বাবাকে আর খুঁজে পায় না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোবাইলে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জুয়েল গাজীর স্ত্রী রেবা আক্তার।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহত হন জুয়েল গাজী। তিনি চাকরি করতেন ওই ভবনের সাততলায় অ্যামব্রোসিয়া রেস্তোরাঁয়। সেখানকার সেকেন্ড শেফ ছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তিনি ছিলেন কর্মক্ষেত্রে বাস্ত। কিন্তু ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তিনিই ছিলেন সকলের ভরসা। তাকে হারিয়ে এখন চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

রেবা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়ে তাসলিমা আক্তার জুয়েনা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ছেলে সাইফুর রহমান তাহমিদের বয়স আড়াই বছর। বাচ্চা দুটি বাবার আদর কী জিনিস বোঝার আগেই এতিম হয়ে গেল। আমাদের জীবনে আর কোনো ঈদ আনন্দ নেই। ঘটনার পর আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো যোগাযোগ করেনি। অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি। পটুয়াখালীর মধুপুর গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে আছি। আমার স্বামীই তো একমাত্র কর্মক্ষম ছিলেন। আমি তো গৃহিণী। সব খরচ তিনিই চালাতেন। ছেলেমেয়ে দুটি বারবার তার বাবার কথা জিজ্ঞেস করে। কিছুই বলতে পারি না। আমাদের জীবনে কী হবে, কিছুই জানি না। এই সন্তান দুটোকে কীভাবে মানুষ করব, সেটাই এখন প্রশ্ন।’

ওই ভবনেই আফেরান জুস বারে শেফ হিসেবে কাজ করতেন মেহেদী হাসান (২৭)। সেদিনের আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারান কৃষক বাবা মোয়াজ্জেম মিয়া এবং গৃহিণী মা কল্পনা বেগমের বড় সন্তান মেহেদী। পরিবারে সচ্ছলতা আনতে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসে কাজ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সব শূন্য করে চলে গেলেন। মেহেদীর ছোট ভাই মো. ইসরাফিল মিয়া বলেন, ‘আমিও ওখানে ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতাম। ঘটনার দিন আমি দৌড়ে ছাদে উঠতে পারলেও আমার ভাই পারেনি। সে সেখানেই প্রাণ হারায়।’

কষ্ট আর হাহাকার নিয়ে ইসরাফিল বলেন, ‘আমাদের জীবনে আর ঈদ কী। আমার বাবা কৃষিকাজ করেন, মা গৃহিণী। পরিবারের একটু সচ্ছলতার জন্য আমরা ঢাকায় গিয়েছিলাম। এখন আমি আবার বাড়িতে চলে আসছি। বাবা-মাকে তো দেখা লাগবে। আমাদের জীবনে কোনো ঈদের আনন্দ নেই, সব আনন্দ মাটি।’

এই ঈদে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবেন বলে পড়াশোনার পাশাপাশি আলাদা চাকরি নিয়েছিলেন আশরাফুল ইসলাম আসিফ (২৫)। বাবা মো. জহুরুল ইসলাম মারা যাওয়ার পর আপন বড় ভাই মো. তারেকের সঙ্গে থাকতেন উত্তর গোড়ান এলাকায়। কাজ করতেন গ্রিন কোজি কটেজের তিনতলায় ইলিয়ন শপে। ইচ্ছা ছিল নিজের হাতখরচ নিজেই চালাবেন, আর ঈদে ঘুরতে যাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুড়ে গেছে আগুনের লেলিহান শিখায়।

তারেক বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে ঘরে বসে থাকতে চায়নি আসিফ। তার খুব ইচ্ছা ছিল তার চাকরির জমানো টাকা দিয়ে এবারের ঈদে ঘুরতে যাবে। ঈদ তো এলো; কিন্তু আমার ভাই আর নেই। আমাদের ঘরেও ঈদ নেই।’

কথা হয় বেইলি রোডে নিহত আরও পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে। সবার কণ্ঠেই ঝরেছে বিষাদ আর হাহাকার। স্বজনদের স্মরণে শুধু গত ঈদের স্মৃতি। নিহতদের সবার পরিবারই জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তাদের সঙ্গে সরকারিভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। কেউ কোনো আর্থিক সহযোগিতাও পায়নি। এই আগুনের ঘটনা কেন ঘটল, কারা দায়ী, জড়িতদের কোনো বিচার হবে কি না, সেটাও জানেন না তারা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল প্রজাতির লায়নফিশ

‘হলদে পাখি’ ফান্ডের টাকায় জেবুন্নেছার কোটি টাকার পাজেরো

ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

দেশে স্বর্ণের দামে পতন, ভরি কত

চট্টগ্রামে বন্যার্তদের পাশে ফেনীর শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

যুক্তরাষ্ট্রের হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম ধ্বংস করল ইরান

সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৭০

পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে

১০

গৌরনদীতে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

১১

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নেতাকর্মীদের ঢল, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

১২

গাইবান্ধার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস গ্রেপ্তার

১৩

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু

১৪

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে সাভার পৌরসভার সড়ক

১৫

১৩ জুলাই / আজকের নামাজের সময়সূচি

১৬

স্বর্ণ ও রুপার আজকের বাজারদর 

১৭

বাহুবলের ১০৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও পেল না বৃত্তি

১৮

ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে আরও হামলা, পাল্টা আঘাত তেহরানের

১৯

অভিযোগ তদন্তে গিয়ে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালেন পুলিশ কর্মকর্তা

২০
X