

কালবেলা: রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে কয়টি পদক্ষেপ জরুরি?
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী: বাংলাদেশে এখন প্রায় সব ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা সম্ভব। রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে তিনটি বিষয় জরুরি—আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা; দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের আরও প্রশিক্ষণ এবং রোগীদের জন্য সাশ্রয়ী ও যৌক্তিক খরচ নিশ্চিত করা। আমরা ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে এরই মধ্যে অত্যাধুনিক ক্যাথল্যাব, ২৪ ঘণ্টা প্রাইমারি পিসিআই, মিনিমাল ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি (এমআইসিএস), সিসিইউ সেবা প্রদান করছি এবং নিকট ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে কাজ করছি। পাশাপাশি এখানে গণমাধ্যমের বড় ভূমিকা রয়েছে। দেশের স্বাস্থ্য খাতের সাফল্যের ইতিবাচক সংবাদ প্রচার করা হলে মানুষের বিদেশমুখিতা কমবে। সেইসঙ্গে চিকিৎসকদের রেফারেল সিস্টেম চালু করলে রোগীদের বাংলাদেশি চিকিৎসকদের চেম্বারে সময় কম দেওয়ার অভিযোগ কমে আসবে। জেনে রাখা দরকার—উন্নত বিশ্বের প্রায় সব সুবিধা বাংলাদেশে আছে। প্রয়োজন শুধু আস্থার।
কালবেলা: স্বাস্থ্যবীমা রোগীদের জন্য কী ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে?
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী: স্বাস্থ্যবীমা থাকলে রোগীর চিকিৎসার খরচ অনেকটা কমে যায়। হঠাৎ অসুস্থ হলে পরিবারকে আর্থিকভাবে বিপদে পড়তে হয় না। এতে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারেন। দেশে বীমা ব্যবস্থা যত সহজলভ্য হবে, তত বেশি মানুষ আধুনিক চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত হবেন। এক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের এলআইসি ইন্স্যুরেন্স মডেলকে অনুসরণ করতে পারি। আমাদের দেশের মানুষ স্বাস্থ্যবীমার প্রতি উদাসীন এবং ধারণা নেতিবাচক। সেক্ষেত্রে সরকারকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।
কালবেলা: হার্ট দিবসে আপনারা কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন?
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী: বিশ্ব হার্ট দিবসে আমরা বিভিন্ন ফরম্যাটে ফ্রি হার্ট ক্যাম্প আয়োজন করেছি। হাসপাতালে ফ্রি বিশেষজ্ঞ হৃদরোগ সেবা, ফ্রি স্ট্রিট ক্যাম্প, হৃদরোগের ডাক্তারদের নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সেমিনার ও গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হৃদরোগ প্রতিরোধের টিপস প্রচার করছি।
আমাদের লক্ষ্য হলো শুধু রোগ সারানো নয়, মানুষকে আগেই সতর্ক করা, যাতে তারা সুস্থ হৃদয় নিয়ে বাঁচতে পারেন। এর পাশাপাশি একটু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, তা হলো—ডিজিটাল ভেহিক্যাল ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলবে এবং হৃদরোগের সচেতনতা প্রচার করবে। পরিশেষে বলতে চাই—বাংলাদেশ হৃদরোগ চিকিৎসায় গর্ব করে। তাই জনগণকে একজন চিকিৎসক হিসেবে বলব, এদেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখুন।