

যাচ্ছেতাই বা অতি ব্যবহারে ওজনদার শব্দের অর্থ বরবাদের গণচর্চা চলছে। জনাশতেক লোক জমায়েতকেও বলা হচ্ছে গণসমাবেশ, গণমিছিল। কতক মানুষের দাবির নামও গণদাবি। কোনো জায়গায় কয়েকজন মিলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে বলা হয় গণআদালত। এসবের জেরে গণ-জন ধরনের শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ হারাচ্ছে। আর থাকছে না শব্দটির আসল অর্থ এবং রস-সুধা। ‘গণ’ শব্দটি কচলাতে কচলাতে, নানা শব্দের সঙ্গে মন ইচ্ছামতো যোগ করতে করতে তা গণমার, গণপিটুনি এমনকি গণধর্ষণে পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। দোষ শব্দের নয়, অতি ব্যবহার ও ব্যবহারকারীদের।
সাধারণ অর্থে কে না জানে ‘গণ’ কোনো কিছুর বহুবচন। অর্থ—গুলো, সমূহ, সমষ্টি, দল বা শ্রেণি। ভ্যালু বা গুরুত্ববহ করতে ‘ন’-এর সঙ্গে ‘গণ’ যোগ করে ‘জনগণ’ বানানো হয়েছে। এই জনরা গণহারে দাঁড়িয়ে ঘটনা ঘটিয়ে দিলে সেটা গণঅভ্যুত্থান। সচরাচর তা হয় বিশৃঙ্খলভাবে। কদাচিৎ সুশৃঙ্খলভাবেও। ‘গণ’ মানে জনগণ বা সাধারণ মানুষ। ‘অভ্যুত্থান’ মানে বিদ্রোহ বা বিপ্লব। ‘গণঅভ্যুত্থান’ অর্থ সাধারণ জনগণের দ্বারা সংঘটিত বিদ্রোহ বা বিপ্লব। যৌক্তিক দাবিকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে পেছনে থাকে সম্মিলিত উপলব্ধি, আবেগ, ঘৃণা, ক্ষোভ, ঝোঁক, ভয় ইত্যাদি। অভ্যুত্থান শব্দটি ফরাসি ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে আকস্মিকভাবে শাসককুলের চোখে চোখ রেখে কথা বলা, বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া। একটি দেশের ব্যাপক সংখ্যক মানুষ যখন সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান বা অবরোধ বা আন্দোলন করে সেটাই গণঅভ্যুত্থান। এর অর্থ জনগণের দ্বারা পরিচালিত একটি বড় ধরনের বিপ্লব, বিদ্রোহ, পরিবর্তন। এটি সাধারণত কোনো সরকার, ব্যবস্থা বা পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জনগণের একত্রিত প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের দাবির একটি প্রকাশ। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সরকার পরিবর্তন, বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে নতুন সরকার গঠন, ব্যবস্থা পরিবর্তন, পরিস্থিতি পরিবর্তন, নতুন বন্দোবস্ত কায়েম।
বাংলাদেশ নতুন করে সেই আবহে শামিল হয় ২০২৪ সালে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান। এর পূর্ণতা এখনো আসেনি। বিশ্বে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস বহু পুরাতন। এটি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপে ঘটেছে। তা সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত হয় এবং এটি একটি সমাজে বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। ‘গণতন্ত্র’ও আরেক গণযুক্ত শব্দ। আধুনিক বিশ্ব গণতান্ত্রিক বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করেছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় গণতন্ত্রের ক্রান্তিকাল এখনো কাটেনি। সেখানে এখনো অশুভ-অগণতন্ত্রের বৃত্ত। ভিন্নমতে অসহিষ্ণুতা। ভিন্নমত গ্রাহ্য না হলে ওই সমাজ কখনোই গণতান্ত্রিক হতে পারে না। পরমতসহিষ্ণুতা ও ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ছাড়া গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কখনো অর্থবহ ও সার্থক হয়ে ওঠে না। কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোনো কোনো দেশে এসব ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের বিপত্তি। ফলে গণতন্ত্রের আহাজারি ও আর্তনাদই নিত্যসঙ্গী ওইসব দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের।
গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনই নয়, এতে নাগরিকদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তাও থাকে। প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে জনগণ নিজেরা সরাসরি আইন তৈরি করে। আর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনগণ ভোট দিয়ে প্রতিনিধি বেছে নেয়, যারা তাদের হয়ে শাসন পরিচালনা করে। কে এই ‘জনগণ’ আর কীভাবে তাদের মধ্যে ক্ষমতা ভাগ করা হয়, তা সময়ের সঙ্গে আর দেশভেদে ভিন্নভাবে বদলেছে। গণতন্ত্রে সাধারণত থাকে সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, ধর্ম ও বাকস্বাধীনতা, নাগরিকত্ব, শাসিতদের সম্মতি, ভোটের অধিকার, জীবন ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার। গণতন্ত্রের ধারণা সময়ের সঙ্গে অনেক বদলেছে। ইতিহাসে দেখা যায়, কিছু সম্প্রদায় জনসভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিত। আজকাল গণতন্ত্রের প্রধান রূপ হলো প্রতিনিধিত্বমূলক, যেখানে নাগরিকরা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করে, যেমন সংসদীয় বা রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায়। উদার গণতন্ত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতা থাকে, সংবিধান আর সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করে, যেমন বাকস্বাধীনতা বা সংগঠনের অধিকার।
গণতন্ত্রের পথচলা বেশ প্রাচীন। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে গ্রিসের নগর-রাষ্ট্রে, বিশেষ করে এথেন্সে ‘গণতন্ত্র’ শব্দটি এসেছিল, যার অর্থ ‘জনগণের শাসন’, অভিজাততন্ত্রের বিপরীতে, যার মানে ‘অভিজাতদের শাসন’। প্রাচীন ও আধুনিক ইতিহাসে গণতান্ত্রিক নাগরিকত্ব প্রথমে শুধু অভিজাতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, পরে উনিশ ও বিশ শতকের ভোটাধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য প্রসারিত হয়। গণতন্ত্র এমন
শাসনব্যবস্থার বিপরীত, যেখানে ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকে না, যেমন স্বৈরাচারী ব্যবস্থা। ইতিহাসে গণতন্ত্র ছিল বিরল এবং ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু উনিশ শতক থেকে গণতন্ত্রের বিভিন্ন তরঙ্গে এর প্রচলন ঘটেছে। প্রাচীন গ্রিস এবং রোমে গণতন্ত্রের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটলেও পরে এর বিস্তার ঘটে দেশে দেশে। একটা সময় পর্যন্ত সভা-সমিতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরাসরি জনগণের মতামত নেওয়া সম্ভব ছিল। এটাই ছিল প্রত্যক্ষ বা বিশুদ্ধ গণতন্ত্র। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় রাজ্যগুলোর আয়তন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেছে। ঘটেছে প্রাচীন যুগের নগর রাষ্ট্রের বিলুপ্তি। বর্তমানে রাষ্ট্রগুলোর বিশাল আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে সব জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র সম্ভব নয়। কাজেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের হয়ে এবং জনগণের কল্যাণে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
এ জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের মুখপাত্র এবং তাদের অভিমতকে গণঅভিমত বলে মনে করা হয়। গণতন্ত্র শব্দটি বিশ্লেষণ করলে অর্থ দাঁড়ায় ‘জনগণের ব্যবস্থা’। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের একটি জনপ্রিয় সংজ্ঞা দিয়েছেন, ‘জনগণের মাধ্যমে জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য’। আর গণমাধ্যমের কাজ হলো জনগণের বার্তা বা মেসেজ নিরপেক্ষ ও নির্ভুলভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা। আদতে সেটা না থাকলেও, অনেক সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও সারা বিশ্বে গণতন্ত্র এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় ও জননন্দিত শাসনব্যবস্থা। কারণ, এ পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ থাকে। আর এ সুযোগ যেখানে থাকে সেখানে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। কোথাও কোথাও প্রজাতন্ত্র প্রায়ই গণতন্ত্রের সঙ্গে মিলে যায়, কারণ দুটোতেই জনগণের সম্মতিতে শাসন চলে। তবে প্রজাতন্ত্র মানেই গণতন্ত্র নয়, কারণ প্রজাতন্ত্রে জনগণ কীভাবে শাসন করবে তা বলা থাকে না। আগে ‘প্রজাতন্ত্র’ বলতে গণতন্ত্র আর অভিজাততন্ত্র দুটোই বোঝানো হতো। এখন প্রজাতন্ত্র মানে এমন শাসন যেখানে রাজা নেই।
কোনো সমাজে ভিন্নমতের অনুশীলন ও চর্চা না হলে সে সমাজকে সভ্য ও গণতান্ত্রিক বলা সুযোগ থাকে না। দার্শনিক ভলতেয়ারের ভাষায়, ‘আমি তোমার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারি, কিন্তু তোমার মতপ্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তার জন্য আমি জীবন দিতেও কুণ্ঠিত নই।’ পাঠপঠনে এটিই গণতন্ত্র ও সভ্যতার মানদণ্ড। বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের শাসনপদ্ধতি অতীতে চালু থাকলেও সময়ের প্রয়োজনে আধুনিক বিশ্ব গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের সংবিধানেরও অন্যতম মূলনীতি ও রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভও গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হচ্ছে গণমাধ্যম নামের একটি মাধ্যম। টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উভয়েরই দুই চাকার সাইকেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গণতন্ত্র নামের তন্ত্রটা এখানে কতটা ‘গণ’ এবং গণমাধ্যম নামের মাধ্যমটা কতটা গণ বা জন, কতটা আরোপিত—এ প্রশ্ন কূল-কিনারাহীন। শ্রেণিমাধ্যম বা গোষ্ঠীমাধ্যমকেও গণমাধ্যম বলে চালানোর কায়কারবার আছে। স্বাধীন দেশেও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে নানাবিধ কালাকানুন জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশনা ও প্রচারণা। এমনকি ভিন্নমতের কারণে গণমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলা, সম্পাদকসহ সাংবাদিক নাজেহাল, হয়রানিমূলক মামলার ঘটনাও নেহাত কম নয়। সে ধারাবাহিকতায় সরকারের রোষানলে আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিককে কারাবরণসহ নাজেহাল হতে হয়েছে। এমনকি ভিন্নমত প্রকাশের কারণে দীর্ঘ কারাভোগের পর কারাগারেই মৃত্যুবরণের দৃষ্টান্তও আছে।
একটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে কি নেই এবং নাগরিকের চিন্তার স্বাধীনতা আছে কি নেই, তা দিয়ে সহজেই গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি পরিমাপ করা যায়। এখানে গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের আন্তঃসম্পর্ক রাজনৈতিক মহল থেকে গড়া হচ্ছে যার যার সুবিধামতো। অনেকেই গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কটা গড়েন ব্যক্তিস্বার্থে। সম্পর্কটা পেশাদার বা প্রাতিষ্ঠানিকতায় নয়। পুরোটাই নিজের স্বার্থে। নিজের কাভারেজের জন্য। যে কারণে গণমাধ্যমের কোনো তথ্য তার পছন্দমতো না হলে চটে যান। হয়রান করতে সময় নেন না। বাংলাদেশে গেল দুই দশকে গণমাধ্যমের মালিকানার ধরন কিন্তু পুরোপুরি পাল্টে গেছে। এখন আর কোনো ব্যক্তি বা একক সংস্থা নয়, রেডিও-টিভি বা সংবাদপত্রের মালিক হচ্ছেন কোনো দলীয় ক্যাডার, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বা গ্রুপ অব কোম্পানিজ। পশ্চিমা দুনিয়ার মতো একই হাউস থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক আর টিভি চ্যানেল হচ্ছে। যে যার সামর্থ্যমতো প্রতিযোগিতা করছে। তথ্যায়নের পাশাপাশি বিনোদিতও করছে।
গণতন্ত্রের সূচক পরিমাপে গণমাধ্যমের অবস্থা বিবেচনায় নেয় হয়। সেখানে আমাদের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। মন্দের ভালো বা মরুভূমিতে কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির মতো গেল বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে কিঞ্চিৎ অগ্রগতি হয় বাংলাদেশের। ২০২৫ সালের সূচকে ১৮০টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের ১৪৯তম অবস্থান নানা মন্দের মধ্যে ছিল একটি ভালো খবর। স্কোর ৩৩ দশমিক ৭১। এর আগে, ২০২৪ সালের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৫তম। স্কোর ২৭ দশমিক ৬৪। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ২০২১ সালের পর থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছিল। ওই বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২তম। পরের বছর ২০২২ সালে বাংলাদেশের অবস্থানের ১০ ধাপ অবনমন হয়েছিল। ২০২৩ সালে আরও এক ধাপ পেছায় বাংলাদেশ। পরের বছর পিছিয়েছিল আরও দুই ধাপ। সেখানে ২৫ সালের পজিশনটি গণমাধ্যমকর্মীদের ভবিষ্যতের জন্য আরও ভালো কিছুর আশাবাদী করে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে গণতন্ত্রের পথচলাও নির্বিঘ্ন হবে। বাকিটা অপেক্ষার বিষয়। কারণ যারা ক্ষমতায় আছেন, আসবেন বা থাকবেন তাদের অভিরুচি-উপলব্ধির ওপর নির্ভর করে বিষয়টি। তারা গণতন্ত্রের সঙ্গে গণমাধ্যমের সম্পর্ক মানবেন কি মানবেন না, সেটা দেখতে হবে। গণমাধ্যমকে তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সহায়ক ভাববেন, না গণমাধ্যমকে তাদের গণতন্ত্রের অধীন করবেন—তা এখনই বলা যায় না। মাধ্যমটি সত্যিকারের গণমাধ্যম হলে তা গণতন্ত্রকে অনুসরণ করবে, গণতন্ত্রকে সহায়তাও করবে। আবার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তা করা নয়। গণমাধ্যম দাবিদার সব মাধ্যম কি আসলে গণমাধ্যম? এ প্রশ্নও আছে। এ নিয়ে মতভেদ আছে অ্যাকাডেমিশিয়ান আর প্র্যাকটিশনারদের মধ্যে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম শিল্পে একবিংশ শতাব্দীতে উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটলেও বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যম ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতে তা কোণঠাসা। এ মতভেদ ও এর ফাঁকে সামাজিক গণমাধ্যম নামের আরেকটি মাধ্যম শক্ত শক্তি হয়ে উঠেছে। মাঝেমধ্যে গণমাধ্যমকে তা মাঠে মেরে ফেলছে। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের রসায়নকে গণধোলাই করে দিচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া নামে বেশি পরিচিত এ মাধ্যমটির এখন জয়জয়কার। এর সম্পাদকীয় নীতি নেই, দায়বদ্ধতা নেই। কখনো কখনো ঠিক-ঠিকানাও নেই। কিন্তু সত্য-মিথ্যা একেক তথ্য ছড়িয়ে দেশ কাঁপিয়ে দিচ্ছে। এখন আর কিশোর-কিশোরী নয়, প্রায় সব বয়সী ও শ্রেণির সঙ্গেই তার যারপরনাই সংযোগ। যার হাতে মোবাইল আছে, সেই একজন সাংবাদিক বা তথ্যদাতা। হোক তা বিশ্বাস-অযোগ্য। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া আর একজন ব্যক্তি বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকার পুরো সুযোগ তাদের আয়ত্তে। তা সংবাদ, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, রাজনীতি, শিক্ষা সবখানেই।
মোস্তফা কামাল
সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন