

ব্যস্ততা যাকে বলে, তার পুরোটা জুড়েই যেন নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন অভিনেত্রী, মডেল, উপস্থাপক ও চাকরিজীবী নীল হুরেজাহান। সেই ব্যস্ততাকে তিনি নিজের মতো করেই উপভোগ করছেন।
এর মধ্যে সময় পেলেই বেরিয়ে পড়েন ভ্রমণে। ক্যারিয়ারের চমৎকার সময় পার করা মেধাবী এ মানুষটির সঙ্গে আড্ডা হয়েছে ‘কালবেলা’র। লিখেছেন এ এইচ মুরাদ
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
আপনার বেড়ে ওঠা কোথায়?
আমার বেড়ে ওঠা ফেনীতে। সেখানে আমি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ছিলাম। এরপর ঢাকায় চলে আসি। তারপর ঢাকায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করি। এখন এখানেই আমার বসবাস।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
ফেনীর মেয়েরা সুন্দরী হয়, এটা কি সত্যি?
অবশ্যই সত্যি। শুধু সুন্দরীই হয় না, তারা আতিথেয়তায়ও বেশ যত্নবান। তারা সবসময় দায়িত্ব নিয়ে জীবনযাপন করতে পছন্দ করে। এটি শুধু ফেনী নয়, চট্টগ্রামের অঞ্চলটাই এমন। আমাদের এই অঞ্চলের ছেলে ও মেয়েরা যেমন সুন্দর, তেমনই দায়িত্ববান।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
আপনার সৌন্দর্য নিয়ে কেউ কখনো বলেছেন আপনি বড় হয়ে মডেল বা অভিনেত্রী হবেন?
স্কুল ও কলেজ জীবনে অনেকেই বলেছেন যে, বড় হয়ে আমি মডেল হব। কারণ, ছোটবেলা থেকেই আমার চেহারা নাকি মডেলদের মতো দেখতে ছিল। এ নিয়ে স্কুলের স্যাররাও বলতেন, ‘এই, তুইতো বড় হয়ে মডেল হবি।’ তাদের কথাই সত্যি হয়েছে।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
আপনি তো এখন একাধারে অনেক প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত। নিজের কোন পরিচয়টি আপনি প্রথম দিয়ে থাকেন?
আমি এখন অনেক প্রফেশনের সঙ্গে যুক্ত আছি। পাশাপাশি ফুলটাইম চাকরিও করছি। এ সবকিছুই কিন্তু আমার নিজের ইচ্ছায়। কারণ, আমি সবসময় একজন কর্মদক্ষ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই জায়গা থেকে এত প্রফেশনে কাজের সুযোগ হয়েছে আমার। তবে আমি আমার প্রথম যে পরিচয়টি সবার আগে দিয়ে থাকি—সেটি হচ্ছে উপস্থাপক। এ পরিচয়ের মাধ্যমেই আমার শুরু। এরপর মডেল ও অভিনেত্রী।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
সবারই তো মিডিয়ায় প্রবেশের গল্প থাকে, আপনারটা জানতে চাই…
মিডিয়ায় আমার রেডিও জকির (আরজে) মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। এ কাজে যুক্ত হওয়ার পেছনে ছোট একটি গল্প আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বন্ধু মিলে আমরা দেশের একটি রেডিও স্টেশনে ঘুরতে যাই। সেখানে যাওয়ার পর দায়িত্বরত একজন আমাকে অফার করেন এ পেশায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে কি না। আমি ‘হ্যাঁ’ বলার পর তারা আমাকে ভয়েস টেস্টের জন্য ডাকে। আমি নির্বাচিত হই। শুরু হয় যাত্রা। এরপর টেলিভিশনে উপস্থাপনার সুযোগ আসে। একটা সময় দুই জায়গায় নিয়মিত কাজ করতে থাকি। তারপর মডেলিং ও অভিনয় করা হয়। এভাবেই শুরু। বলতে গেলে দেখতে দেখতে এ পেশায় আমার এক দশক হয়ে গেছে। পুরোটা সময় দারুণ উপভোগ করছি।
আপনার প্রথম নাটক ‘অক্ষর থেকে উঠে আসা মানুষ’, এটা নিয়ে জানতে চাই।
এটি ক্যারিয়ারের প্রথম নাটক আমার। এর আগে অনেক আর্টিস্ট ও নির্মাতার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম আমি। তাই একটু ইজি ছিলাম, কিন্তু ভয় ছিল একটি জায়গায়। কারণ, যাদের সঙ্গে আমি কাজটি করার সুযোগ পেয়েছিলাম, তাদের মধ্যে দেশের টিভি নাটকের জনপ্রিয় জুটি আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফা। যারা দুজনই কিংবদন্তি এবং আমার ভীষণ পছন্দের। তাদের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে একটু ভয়ে ছিলাম। পরবর্তীকালে দুজনই আমাকে সহযোগিতা করেন। কাজটিও বেশ জনপ্রিয় হয়। এরপর তো আরও কয়েকটি কাজ করা হয়েছে।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
আপনি তো মাল্টি কাজ করেন। এরই মধ্যে আপনার লেখা গান প্রকাশ পেয়েছে, আবার একটি ব্যান্ডের গানের মডেলও হয়েছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?
দারুণ অভিজ্ঞতা। ব্যান্ডের গানগুলোর গল্প একটু ভিন্ন হয়ে থাকে। যেখানে ক্রিয়েটিভিটিও থাকে। তাই কাজের ধরন আলাদা হয়। সে জায়গা থেকে আমি শিরোনামহীনের ‘এই অবেলা-২’ গানের মডেলিং হওয়ার বিষয়টি উপভোগ করেছি। আর রাফার সঙ্গেও কাজ করা হয়েছে। দুটি কাজ করেই ভালো লেগেছে।
নীল হুরেজাহান। ছবি : সংগৃহীত
কাজের ব্যস্ততা কেমন উপভোগ করেন…
উপভোগ করি বলেই তো অনেক কাজ করা হচ্ছে। তবে এখন কাজের সময় কমিয়ে দিয়েছি। সে ক্ষেত্রে টেলিভিশন উপস্থাপনা আগের মতো করছি না। এখন কাজের পাশাপাশি নিজেকে সময় দিচ্ছি।
মন্তব্য করুন