

নতুন বছরকে সামনে রেখে হলিউডে মুক্তি পেতে চলেছে একাধিক প্রতীক্ষিত সিনেমা। বছরের শুরুটা কিছুটা ধীর হলেও সামনের দিনগুলোয় রোমাঞ্চ, আবেগ ও চমকের মেলবন্ধনে ২০২৬ হতে চলেছে বড় পর্দার এক স্মরণীয় বছর। এই সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহে আসা সিনেমাগুলোর গল্প থাকছে কালবেলার আয়োজনে। লিখেছেন-তামজিদ হোসেন
গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশন
২০২০ সালের ছবি গ্রিনল্যান্ডের সিক্যুয়েল গ্রিনল্যান্ড ২: মাইগ্রেশনে আবারও দেখা যাবে গ্যারিটি পরিবারকে, যারা গ্রিনল্যান্ডের বাংকার থেকে উৎখাত হওয়ার পর এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। গল্পটি পাঁচ বছর পরের প্রেক্ষাপটে এগোয়, যেখানে এক দম্পতি ও তাদের সন্তান ইউরোপের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিস্তীর্ণ ভূমি পেরিয়ে একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য আশ্রয়ের সন্ধানে বিপজ্জনক যাত্রায় বেরিয়ে পড়ে।সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রিক রোমান ওয়াহ।ছবিতে অভিনয় করেছেন জেরার্ড বাটলার, মোরেনা ব্যাকারিন, রোমান গ্রিফিন ডেভিসসহ আরও অনেকে। চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি।
স্লিপ ওয়াকার
সিনেমার গল্পে সারাহ একজন সফল শিল্পী, যার জীবনে রয়েছে স্পষ্ট লক্ষ্য ও স্বপ্ন। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই তার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় সে হারায় তার আদরের কন্যাকে, আর একই সঙ্গে তার স্বামী চলে যায় কোমায়। এই ব্যক্তিগত ক্ষতিকে আরও গভীর করে তোলে এমন কিছু বিভীষিকাময় দর্শন, যা সারাহ এর পুরো জীবনকে কার্যত অচল করে দেয়।
বাস্তব আর দুঃস্বপ্নের পার্থক্য করতে না পেরে সারাহ নিজের যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার স্লিপওয়াকিং আরও ভয়ংকর রূপ নেয়, আর প্রতিটি দিন তাকে টেনে নেয় এক অজানা আতঙ্কের দিকে।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন ব্র্যান্ডন আউমান। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন হেইডেন প্যানেটিয়ার, বেভারলি ডি’অ্যাঞ্জেলো, জাস্টিন চ্যাটউইনসহ আরও অনেকে। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে।
দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার
লিডিয়া ইউকনাভিচের ২০১১ সালের একই নামের বইয়ের অবলম্বনে নির্মিত ‘দ্য ক্রোনোলজি অব ওয়াটার’ ছবিটি অনুসরণ করে এর প্রধান চরিত্র লিডিয়া ইউকনাভিচকে। একজন পেশাদার সাঁতারু হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও, লেখালেখির মধ্যেই সে খুঁজে পায় জীবনের সান্ত্বনা ও মুক্তির পথ।
ব্যক্তিগত ক্ষতি, মানসিক আঘাত ও আসক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে লিডিয়া এগিয়ে যায় আত্মঅন্বেষণের এক কঠিন যাত্রায়। মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা তার জীবনে বয়ে আনে গভীর যন্ত্রণা, আর ধীরে ধীরে সে নিজের শর্তেই জীবনকে গ্রহণ করতে শেখে। উল্লেখ্য, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট ফিচার ফিল্ম পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। ছবিতে অভিনয় করেছেন ইমোজেন পুটস, থোরা বার্চ, সুসান্নাহ ফ্লাডসহ আরও অনেকে। সিনেমাটি চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।
সং সাং ব্লু
১৯৮০-এর দশকের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্পে মাইক ও ক্লেয়ার সারডিনা কাজ করেন নীল ডায়মন্ড ট্রিবিউট ব্যান্ডে। মঞ্চে তারা পরিচিত লাইটনিং ও থান্ডার নামে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা টানাপোড়েনের কারণে যখন চারপাশের পৃথিবী তাদের আলাদা করে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন নিজেদের স্বপ্ন ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে তাদের লড়াই আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো উদযাপন করতে করতে তারা একের পর এক বাধা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, শুধু পাশাপাশি থাকার জন্য। ছবিটি মাইক ও ক্লেয়ার সারডিনার বাস্তব জীবনের গল্প অবলম্বনে নির্মিত, পাশাপাশি একই নামের ২০০৮ সালের তথ্যচিত্র থেকেও অনুপ্রাণিত।
ক্রেগ ব্রুয়ারের পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন হিউ জ্যাকম্যান, কেট হাডসন, মাইকেল ইম্পেরিওলিসহ আরও অনেকে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ৯ জানুয়ারি।
মন্তব্য করুন