সেন্টু আলম
প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছোটবেলার ঈদ অনেক অনেক আনন্দের ছিল

সেন্টু আলম। ছবি : সংগৃহীত
সেন্টু আলম। ছবি : সংগৃহীত

ছোটবেলায় অনেক অনেক আনন্দের ছিল। আমি মধ‍্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কিছুটা টানাটানির মধ্যে বড় হয়েছি। তারপরও ঈদের আনন্দে উপভোগ করেছি প্রাণ ভরে। আমি শহরে বড হয়েছি, তাই গ্রামের ঈদের অভিজ্ঞতা কম। তবে একবার ছোটবেলায় ঈদ করেছিলাম। ঈদগাহে গিয়ে নামাজ পড়েছি, এরপরে মেলাতে গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক রকম খেলনা এবং মুখরোচক খাবার। তবে গ্রামে দেখেছি দুপুরের পরেই ঈদ শেষ। যা শহরে আমরা অন্তত ৩ দিন ঈদ আনন্দ করতাম। শহরের ঈদই আমার কাছে ভালো লাগে।

শহরে ঈদের আনন্দ শুরু হতো, ঈদের আগের দিন রাত থেকেই। কোনোরকম ইফতার সেরেই চলে যেতাম, ছাদে বা মাঠে। কে কার আগে চাঁদ দেখবে এই নিয়ে চলত কম্পিটিশন। চাঁদ রাতের শপিংয়ে ছিল অন‍্যরকম মজা। তাই জামা কাপড় আগে কিনলেও জুতো কিনতাম চাঁদ রাতে। তখনতো টেইলারের কাছে জামা সেলাই করতাম। তবে তা গোপনে- কারণ কেউ যেন দেখে না ফেলে। ঈদের দিন সকালে ও সমবয়সীরা কে কার আগে ঘুম থেকে উঠবে তার কম্পিটিশন চলত। এরপর নতুন জামা পরে চলতো তর্কাতর্কি। কার পোশাক কতো সুন্দর। এরপর বাড়ির মুরুব্বি, পাড়ার মুড়ব্বি সবাইকে সালাম করতাম সালামির আশায়।

দলবেঁধে বাড়ি বাড়ি যেতাম। আত্মীয়, অনাত্মীয় কোনো ভেদাভেদ ছিল না। সবার বাসায় যেতাম। আম্মার হাতের কোরমা এবং লাচ্ছা সেমাইয়ের স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে।

আমরা সারা বছরে একবারই জামা কাপড় পেতাম। হাতে সালামির টাকা থাকায় মন ভরে কোক, ফানটা খেতাম। যদিও কোক, ফানটা তখন এতো সহজলভ্য ছিল না।

যখন একটু বড় হলাম, চলে যেতাম পার্কে, চিড়িয়াখানায়। আরেকটু বড় হওয়ার পরে শুরু হলো, হলে গিয়ে সিনেমা দেখা। একাধিক ছবি না দেখলে ভালো লাগত না। সবই এখন স্মৃতি। এখন ঈদ মানে প্রবাসের ঈদ।

এখানে ঈদ অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মতো। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করি ঈদের আনন্দ ফুটিয়ে তুলতে কিন্ত সেটা পুরোপুরি সম্ভব হয় না। খুব মিস করি নিজের জন্মস্থান এবং আত্মীয়স্বজন। শনিবার বা রবিবার ঈদ হলে অনেকটা সুবিধা। কারণ এই দুদিন ছুটি থাকে, আমরা ঈদের আনন্দ অনেকটা উপভোগ করি কিন্তু অন‍্যদিন ঈদ হলে, নামাজের পরেই চলে যাই যার যার কর্মস্থলে। ঈদের পরে যে শনিবার, রবিবার আসে তখন মিলিত হই বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনদের সাথে দেখা করতে। অর্থাৎ এখন আমরা বাসী ঈদ উদযাপন করি।

ঈদের দিন যখন নামাজে যাই, বিভিন্ন দেশের মুসলিম ভাইদের সাথে দেখা হয়। একটু ঈদ মনে হয় কিন্তু বেরিয়ে রাস্তায় আসলেই ঈদের কোনো চিহ্ন থাকে না। নেই শপিংমলে নতুন নতুন জামা কাপড়ের সমাহার। নেই ঈদে বাড়ি যাওয়ার দৃশ‍্য। ফুটপাথে কেনাকাটা, হাঁকডাক আজ সবই খুব মিস করি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

চার বছর পর ফিরেই মোসাদ্দেকের ফিফটি

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান সাময়িক বরখাস্ত

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর

১০

ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার সেই ৬১ আইনজীবী 

১১

অনার্সে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন কোর্স বাতিলের খবর ‘ভিত্তিহীন’ : শিক্ষা মন্ত্রণালয়

১২

তথ্য উপদেষ্টা / ‘শর্ত মেনে’ আ. লীগের যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে

১৩

কাশ্মীরে বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ৭০ জনের বেশি

১৪

সা ক্ষা ৎ কা র / ইসলামি অর্থনীতিকে বিকল্প পথ হিসেবে গ্রহণ না করলে বাজেটের দুষ্টচক্র ভাঙবে না

১৫

চসিক মেয়রের সঙ্গে বিসিবি পরিচালক সাকিফ সালামের সাক্ষাৎ

১৬

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হত্যার ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার

১৭

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্লিনশিট  / সেরাদের তালিকায় ব্রাজিলের তিন গোলরক্ষক, নেই কোনো আর্জেন্টাইন

১৮

স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

১৯

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি

২০
X