

সাধ্য ও অসাধ্য
তুমি আমাকে অবজ্ঞা করতে পারো ভীষণ ভাবে এটা তোমার একান্ত বিষয় ও বোঝাপড়া, তোমার এখতিয়ার সেখানে সীমা টানা আছে আমার সাধ্য নেই সেই চীনের শক্ত প্রাচীর ভাঙার। আমার ফোন ধরতে না পারো, পথে দেখা হলে কোনদিন
অন্যদিকে মুখ ফিরায়ে দ্রতগতি ট্রেনের মতো সরে যেতে পারো বিপরীত দিকে। কোন শুন্যতা বিশ্ব-জগত-সংসারকে বিন্দুমাত্র বিহ্বল করে না কেউ না ফেরার দেশে চলে গেলে অনুষ্ঠান করে অপূরণীয় ক্ষতির উল্লেখ করা শুধু ভদ্রতার ভাষা। অতিষ্ঠ হয়ে ছেলেধরা বা পকেটমার বলে লোক জড়ো করে একদিন ইচ্ছেমতো দিতে পারো হাটুরে মার। আমি উঠে দাঁড়ায়ে হাতমুখ মুছতে মুছতে গায়ে মাখা ধুলোবালি ঝাড়তে ঝাড়তে বলবো যেমন জীবনানন্দ বলেছিলেন কোন একজন শোভনা না বনলতাকে—
অবজ্ঞা করতে পারো নির্দ্বিধায়, করো যতো ইচ্ছে নিজের ভেতর সহ্য করার অসীম ধৈর্যের দুর্গ গড়ে রেখেছি— যা তোমার বিশ্বাসের অতীত, অবজ্ঞা করতে পারো অস্বীকার করতে পারবে না, সেই সাধ্য তোমার নেই।
অলৌকিক
যেতে যেতে সামনে গাড়ি গুলো ধীর গতি হয়ে আসে মহাসড়কের সাইনে বলছে পাঁচ মাইল জুড়ে এরকম শ্লথ গতির কথা। একটা বা দুটো লেন বন্ধ বাকী লেন দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি।
দুর্ঘটনা ঘটেছে কিছুক্ষণ আগে নিয়মমাফিক ছুটে এসেছে পুলিশ, এম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি। দশ মিনিটের হিসাব মাথার ভেতর আমার তখন সময়ের হেরফের আমিও হতে পারতাম এই দুর্ঘটনার একজন। এটা একটা অলৌকিক ঘটনা। এটা ছোট্ট একটা উদাহরণ।
এরকম অলৌকিক ঘটনা কাহিনী তোমার জীবনেও আছে এর চেয়ে বরং আরও বেশী জীবন্ত। যেমন দেখ উড়াল রেলপথের পাত খুলে গাড়ি চ্যাপ্টা হয়ে যে মারা গেছে সে ছিলো তোমার সামনে ভিড়ে আটকে। যারা বস্তুবাদী তারা বলবে, এটা একটা কোইনসিডেন্স বা কাকতালীয় ব্যাপার, অনেক ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝাবে নিজেকে—
কারণ তার বোঝার ভেতর ঝামেলা রয়ে গেছে। কিছু কথা অলৌকিক যা তুমি বলো কিংবা যা তুমি শুনো। অলৌকিক ঘটনা ঘটে সবার জীবনে বই খুলে ঠাণ্ডা মাথায় একবার চোখ বোলাও। কার সাথে কথা বলো তুমি যখন তোমার কথা শোনার কেউ থাকে না।
আমার সেই তিন পাউন্ড ওজনের ছেলেটা বড় হয়েছে। তার মা তার এক বছর বয়সের একটা জুতো লন্ড্রি রুমে ঝুলায়ে রেখেছে। কতো ছোট সেই জুতা। ছেলেটা কিছু চাইলে বলতাম একটু ধৈর্য ধরো! ছেলেটা বলতো, ড্যাড ইউ নো, আই লস্ট মাই পেসেন্স হোয়েন আই বর্ন। ঠিকইতো। এই কথটা বলেছিলো যখন তার বয়স তিন কি চার। এখন ভাবি, এমন সত্যটা এতোটুকু বয়সে জানলো কি করে? ধৈর্য তার কম, পৃথিবীতে আসার জন্য তার যেন তর সইছিলো না।
মার পেট কেটে বের করা হলো তাকে পৃথিবীতে আসার নির্ধারিত তিন মাস আগে। পর্দার পাশে বসে আমি। ওপাশে চলছে যুদ্ধ উষ্ণ রক্ত ফিনকি দিয়ে এসে পড়লো হাতে।
নার্স ছেলেটাকে আমার হাতের তালুতে তুলে দিলো, হাতের তালুর মাপে একটা শিশু। একটা শান্তশিষ্ট ইম্যাচিউর পুতুল, সে এক অলৌকিক মানব। আমার জীবনে সে এক অনন্যসুন্দর অলৌকিকত্বের গল্প আমার বইয়ের লেখা আমি পড়ি আর বলি — সমস্ত প্রশংসা তোমার!