

তুমি কি গো সখী? এই দেখো বৃক্ষ মনোহর। এই দেখো পুষ্প রাধিকা। অদূরে ঘনায়মান গোধূলি থেকে হেঁটে আসা দৃশ্যপাট থেকে যে আবহ ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীতে—তোমাকে সেইখানে নিয়ে যাব। কোলে, কাঁধে, পিঠে কখনোবা হাত ধরে শূন্য সন্ধ্যার মুখে দাঁড়াতে দাঁড়াতে যদি গান গাই, তবু কি তোমার মুখে হাসি ফুটবে না! তুমি কি গো সখী? জানি ফুটবে।
সমস্ত জরা, অদূরদর্শিতা, অহেতুক বেদনাবোধ সব যদি একটি জলের স্রোতের মত দূরে নিয়ে যাই, এক সকালে দেখবে তোমার জীবনের দুকূলে রাশি রাশি শঙ্খরা এসে ভিড় করেছে। সেদিন তুমি সদ্যপ্রসূত শিশুটির মতো প্রথমে কান্না, তারপর জীবনের গন্ধ পেয়ে খিলখিল করে হেসে উঠবে। যদিও তুমি পরিণত তরুণী, তবু তুমি তো শিশুই। যদিও তোমার কেশগুচ্ছ পাকা ধানের মতো হাওয়ায় হাওয়ায় উড়বে, তবু তুমি জাগতিক উল্লাস ছেড়ে পরমানন্দে ডুব দেবে।
সেদিন সব জরা, বাঁধা, ক্লান্তি তোমার পায়ের কাছে লুটিয়ে লুটিয়ে এতোকাল তোমাকে আক্রান্ত করার দোষে ক্ষমাভিক্ষা চাইবে। তুমি উদার। তুমি নির্ভীক। আমার বাহুতে তোমার কাঁধ। আমার হাতে তোমার হাত। ফলে ক্ষণকালও বিলম্ব না করে, সেই যে তুমি তাদের পরিত্যাগ করবে, যেন কোনোদিন ভ্রুক্ষেপই করোনি।
তাই বলি, এসো এই নতুন জীবনের পথে। তুমি তো বহুবিস্তৃত জীবনের অনন্য পথচারী সখী। কালের জমানো যন্ত্রণা তোমাকে ছোঁয় কেন? কেন বিপর্যস্ত হও? তুমি তো আনন্দকামী। উপভোগ তোমারই বদান্যতায় সুশোভিত হয়। তবে কেন ভাবো? ওই ক্লেদের পরিত্যক্ত পরিখা থেকে উঠে এসো। এই দেখো আমার হাত। আমার আঙ্গুলি ছোঁও। তারপর স্পর্শ অনুভব করে বিমুগ্ধ হও। তোমার সকল আহ্লাদ সম্পন্ন করো। সংগীতে মূর্ছা যাও। উঠে ভৈরবী নৃত্য করো।
পুরোদস্তর আত্মমগ্ন থেকে আমার ভালোবাসার সৌভাগ্য গ্রহণ করো। তোমার কপালে রাজটীকা। তোমার পায়ে স্বাধীন ঘুঙুর। তোমার মৃদুল মনে আমার আগমনের উল্লাসধ্বনি। যেন কোথাও নেই, তবু বুঝি আমরা আমাদের ভেতর। একটি পোয়াতি সন্ধ্যার দিকে যখন আমরা হেঁটে যাচ্ছি, এই সন্ধ্যা লুটিয়ে যাচ্ছে তোমার আমার মিলনের ধূলোয়।