

চীনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। চুক্তির প্রথম ধাপের আওতায় জাপান যুক্তরাষ্ট্রের তেল, গ্যাস ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্পে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি যৌথভাবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটি গত বছর দুই দেশের মধ্যে হওয়া ৫৫০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ওহাইওর পোর্টসমাউথে নির্মিতব্য প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; যেখান থেকে বছরে প্রায় ৯.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এটি পরিচালনা করবে এসবি এনার্জি, যা জাপানি কনগ্লোমারেট সফটব্যাংক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
চুক্তির আওতায় টেক্সাস উপকূলে একটি গভীর সমুদ্র ক্রুড অয়েল রপ্তানি সুবিধা নির্মাণে জাপান বিনিয়োগ করবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে। প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান জর্জিয়ায় স্থাপন করা হবে, যেখানে সিনথেটিক ডায়মন্ড গ্রিট উৎপাদন করা হবে। এটি উন্নত উৎপাদনশিল্প ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ট্রাম্পের ভাষায়, এটি বিদেশি নির্ভরতা কমাবে।
এই বিনিয়োগকে চীনের প্রভাব মোকাবিলার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপান-চীন কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। যদিও তাকাইচি সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ করেননি, তিনি বলেন— এই বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জোরদার করবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্কনীতি এই বিশাল বিনিয়োগ সম্ভব করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের নীতি মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে।
এদিকে জাপান জানিয়েছে, জানুয়ারিতে তাদের রপ্তানি প্রায় ১৭% বেড়েছে, যার বড় অংশ এসেছে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে।