কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এপ্রিলে কমেছে রপ্তানি আয়

গ্রাফিক্স : কালবেলা
গ্রাফিক্স : কালবেলা

নানা ধরনের সংকট এবং চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস থেকেই রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ। টানা তিন মাস এই প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও চতুর্থ মাসে এসে ছন্দপতন দেখা দিয়েছে। একক মাস হিসেবে এপিলে রপ্তানি আয় বেশ কিছুটা কমে গেছে। এ সময় লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রবৃদ্ধি দুই অবস্থান থেকেই পিছিয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। তবে রপ্তানি আয়ের প্রাণভ্রমরা তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে। সেখানেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপ ও আমেরিকাসহ সারা বিশ্বে তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, হিমায়িত খাদ্য এবং বাইসাইকেলসহ সব খাত মিলে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানি আয় এসেছে ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪ হাজার ৫৬৭ কোটি ডলার। সেই হিসাবে ১০ মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর একক মাস হিসেবে এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৯১ কোটি ডলার। যা গত বছরেরে একই সময়ে ছিল ৩৯৫ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ।

রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় দুদিক থেকেই পিছিয়ে রয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। অর্থবছরের ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম এসেছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি ছিল ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার। এসময় রপ্তানি আয় এসেছে ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম এসেছে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। আর এপ্রিল মাসের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭০ কোটি ডলার। যদিও এসময়ে রপ্তানি আয় এসেছে ৩৯১ কোটি ডলার। সেই হিসাবে এপ্রিলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম এসেছে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, ডলার সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া, সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার আশংকাসহ বিভিন্ন ধরনের সংকটের মধ্যেও রপ্তানি আয়ের এই প্রবৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নানা কারণে আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে। তবে সম্প্রতি রপ্তানি প্রণোদনা কমানোর যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে তৈরি পোশাকসহ পুরো রপ্তানি খাত। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে আগামী দিনে রপ্তানি আয় আরও কমবে।

এই প্রসঙ্গে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, ১০ মাসে তৈরি পোশাক খাতে খুব বেশি প্রবৃদ্ধি হয়নি। গড়ে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের মতো হয়েছে। নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও ওভেনে এখনো সংকট রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এখনো যে সংকট আছে, তাতে পুরো অর্থবছর শেষে খুব ভালো কিছু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন দেশ তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যে কৌশলগুলো নিয়েছে তার ওপর ভিত্তি করেই চলতি মাসে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর পাশাপাশি পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং নতুন বাজার খোঁজার ক্ষেত্রেও তারা কাজ করছে বলে জানান।

বিভিন্ন খাতে রপ্তানি আয়ের উত্থান-পতন

২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় এসেছে ৪ হাজার ৪৯ কোটি ডলার। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। যদিও এসময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কম হয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি আযয়ের প্রবৃদ্ধি ২৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে ৭০ কোটি ২৫ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে কৃষি পণ্যের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে এই খাতটিতে। আলোচ্য সময়ে ৭৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় এসেছে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭২ কোটি ৯৮ লাখ ডলার।

এদিকে, আলোচ্য সময়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এ সময়ে এই খাতের রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৮৭ কোটি ২৪লাখ ডলার। যা ২০২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০০ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, এ সময় পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও কমেছে ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৭১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ০৮ লাখ ডলার। হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছের রপ্তানি আয় ৩৭ কোটি থেকে কমে ৩২ কোটিতে নেমেছে। তবে এসময়ে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভাঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, বিলুপ্ত কমিটি

খামেনির জানাজায় আসা তীর্থযাত্রীদের জন্য ৫ হাজারের বেশি স্কুল খুলে দিল ইরান

নতুন নাম-বাড়তি দায়িত্ব / ‘অ্যান্টি টেররিজম’ ও ‘কাউন্টার টেররিজম’ ইউনিটে রদবদল

শত কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

দেশে বাড়ছে জ্বালানি তেলের মজুত

পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন বার্তা, কোন গ্রেডের বেতন কত

ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পোড়া

ফুটবল খেলা নিয়ে তর্ক, ঘুসিতে যুবকের নাকের হাড় ভাঙার অভিযোগ

ঘানাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় কলম্বিয়া, সামনে সুইজারল্যান্ড

আজকের স্বর্ণের বাজারদর

১০

বিয়ে করলেন টেইলর সুইফট ও ট্রাভিস কেলসি

১১

ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল কিশোরের

১২

ভূমিকম্পে পা হারানো শিশুর মুখে হাসি ফোটালেন রোনালদো

১৩

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

১৪

যুবলীগ নেতাকে আটকের পর ‘ছেড়ে দিল’ পুলিশ

১৫

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা 

১৬

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, আহত ৭

১৭

খামেনির শেষ বিদায়ে তেহরানে কোটি মানুষের ঢল

১৮

বায়ুদূষণে শীর্ষে কিনশাসা, ঢাকার খবর কী

১৯

৪৪ ডিগ্রির ইউরোপ: চরম গরম কি আর ‘ব্যতিক্রম’ নয়?

২০
X