নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৯:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রুশ বাহিনীর কাছে বিক্রি হয়ে যুদ্ধে প্রাণ হারান সিংড়ার যুবক

ড্রোন হামলায় নিহত হুমায়ুন কবির। ছবি : সংগৃহীত
ড্রোন হামলায় নিহত হুমায়ুন কবির। ছবি : সংগৃহীত

রাঁধুনী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজে গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাশিয়া গিয়েছিলেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার হুমায়ুন কবির ও তার দুলাভাই রহমত আলী। কিন্তু দালাল তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়।

পরে যুদ্ধে গিয়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান হুমায়ুন কবির। আর দুলাভাই রহমত আলী বন্দি রয়েছেন রুশ সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে।

২৩ জানুয়ারি ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় হুমায়ুন কবির মারা যান বলে ২৬ জানুয়ারি পরিবারের কাছে খবর আসে। এরপর থেকে পরিবারে শোকের মাতম চলছে।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হুলহুলিয়া গ্রামে হুমায়ুনদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। ছেলের মৃত্যু আর জামাইকে ফিরে পেতে কেঁদেই চলেছেন হুমায়ুনের মা কারিমন বেগম। তিনি বারবার বলছেন, অন্তত ছেলের মরদেহটা যেন তিনি শেষবারের মতো দেখতে পারেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন কবির (২৮) ও জামাতা রহমত আলী (৪০) দালালদের প্রতারণার শিকার হন। প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা বেতনের লোভ দেখিয়ে তাদের পরিবার ১৮ লাখ টাকা খরচ করে গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার ড্রিম হোম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাশিয়ায় পাঠায়। প্রথমে ওমরা ভিসায় সৌদি আরব যান। সেখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয় রুশ সেনাবাহিনীর কাছে। আর রাশিয়ার সেনাবাহিনী তাদের বাধ্য করে যুদ্ধে অংশ নিতে।

তিন মাসের মাথায় আসে নির্মম সংবাদ। ২৬ জানুয়ারি ড্রোন হামলায় মৃত্যু হয় হুমায়ুন কবিরের। স্বামীকে হারিয়ে এক বছরের মেয়ে প্রীতিকে নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন হুমায়ুনের স্ত্রী তারা বেগম। কোলের শিশুটি খুঁজে ফিরছে তার বাবাকে। শিশুটিও জানে না তার বাবা কোনোদিন আর ফিরবে না।

হুমায়ুনের স্ত্রী তারা বেগম বলেন, ‘আমি এখন কী করব। ঋণ করে ও জমিজমা বিক্রি করে বিদেশে গিয়েছে, সেই টাকা শোধ করব কী করে। দালালরা আমাদের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা নিয়েছে। কথা ছিল তারা রাশিয়ায় চাকরি করে এই টাকা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরিশোধ করতে পারবে।’ তারা বেগম এই দালালদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি করেন।

হুমায়ুনের বড় বোন মেঘনা বেগম বলেন, ‘চলতি মাসের ২০ তারিখে ইমোর মাধ্যমে হুমায়ুন ও রহমত জানান, তাদের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। এরপর ২৬ জানুয়ারি রহমত জানায় হুমায়ুনের মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি হুমায়ুনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানান। হুমায়ুনের বন্ধু মাহমুদ বলেন, দালালের খপ্পরে পড়ে তার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে, এমনটাই প্রত্যাশা তার। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাখাওয়াত হোসেনের মাধ্যমেই তারা এভাবে বিদেশে পাড়ি জমান চাকরির জন্য। সাখাওয়াত বর্তমানে সাইপ্রাসে আছে।

ঢাকার ড্রিম হোম ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড কোম্পানিতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা অফিস বন্ধ করে পালিয়েছে। স্থানীয় দালালদের ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা/এমএসকেএম
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিয়ের আশ্বাসে বিধবাকে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে মামলা

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছরেও পূরণ হয়নি শ্রমিকের প্রত্যাশা: সাইফুল হক

অস্তিত্ব সংকটে পান্ডারখাল বাঁধ, হুমকির মুখে দেখার হাওরের বিস্তীর্ণ ফসলাদি

ধর্মের নামে বিভাজনের রাজনীতির সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, ফের দেশে বন্যার শঙ্কা

গণভোটের বিরুদ্ধে গিয়ে সংবিধান বাস্তবায়ন করছে বিএনপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ গ্রহণ সবচেয়ে কঠিন কাজ: ট্রাম্প

জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে, লুটপাট করা তাদের দ্বায়িত্ব না: খোকন

আমেরিকানরা ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে নয়, দাবি ট্রাম্পের

‘যতবার হরমুজের জাহাজে হামলা ততবার ইরানের বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হবে’

১০

কারও কাছে মাথা নত করতে রাজনীতি করি না: খোরশেদ আলম

১১

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল তিন দিনের রিমান্ডে

১২

মহিলা কলেজে চাকরি করায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

১৩

নারীকাণ্ডে বহিষ্কার এমপি নজরুলের বিষয়ে যে তথ্য জানালেন ইসি আনোয়ারুল

১৪

সৌদি আরবের ওপর হুতিদের নৌ অবরোধ, নিন্দা জানাল ঢাকা

১৫

টাঙ্গাইলে হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

১৬

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

১৭

ফাইনালে কেমন ছিল রেফারিং? এবার মুখ খুললেন মেসিদের কোচ

১৮

‘বহিষ্কার’ আর ‘পদত্যাগ’ এক নয়, গাজী নজরুলকে নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার 

১৯

ভিডিওকাণ্ডে জামায়াত নেতা দল থেকে বহিষ্কার, শ্যামনগরে মিষ্টি বিতরণ

২০
X