বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৫, ১০:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ইট দিয়ে শিশুকে খুন

নিহত শিশুর পরিবারের আহাজারি। ইনসেটে মিনহাজ হোসেন আবির। ছবি : কালবেলা
নিহত শিশুর পরিবারের আহাজারি। ইনসেটে মিনহাজ হোসেন আবির। ছবি : কালবেলা

নাটোরের বড়াইগ্রামে মোবাইলে গেম খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে ১২ বছর বয়সের এক শিশুর হাতে মিনহাজ হোসেন আবির (৯) নামে আরেক শিশু খুন হয়েছে। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে শিশুটিকে নির্মমভাবে হত্যা করে অভিযুক্ত অপর শিশু হযরত আলী।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকালে হযরত আলীকে (১২) গ্রেপ্তার করে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন নির্মাণাধীন মসলা মিলের ফাঁকা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবির উপজেলার মহিষভাঙ্গা মহল্লার কাতার প্রবাসী মিলন হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে বনপাড়া আদিব ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। অভিযুক্ত হযরত আলী একই গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে। সে মহিষভাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের তথ্য জানান।

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে আবির তার বাবার ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও তার বাইসাইকেলটি নিয়ে ঘুরতে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। সন্ধ্যায় তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাতে স্বজনরা পাশের মসলা মিলের ফাঁকা মাঠে প্রথমে তার রক্তমাখা বাইসাইকেল ও স্যান্ডেলসহ আবিরের মাথা থেঁতলানো লাশ পান।

থানা ও প্রেস ব্রিফিং সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আবির ও হযরত একসঙ্গে বসে মোবাইলে গেম খেলছিল। এ সময় খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে সাইকেল ফেলে রেখে কিছুদূরে গেলে হযরত পাশে পড়ে থাকা ইট দিয়ে আবিরের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে হযরত তাকে পাশেই ভুট্টার শুকনা গাছের পালার নিচে লুকিয়ে রেখে মোবাইলটি নিয়ে চলে যায়। শুক্রবার সকালে পুলিশ হযরতকে গ্রেপ্তার করলে সে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে এসব তথ্য জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই বাড়ি থেকে আবিরের মোবাইলটি জব্দ করা হয়।

নিহতের পিতা মিলন হোসেন জানান, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর থেকে ছেলেটা বেশিরভাগ সময় আমার সাঙ্গেই থাকত। গতকাল মোবাইল ও সাইকেল নিয়ে সে ঘুরতে যায়। আমি বাড়িতে থেকেও আমার সন্তানকে নিরাপদ জীবন দিতে পারলাম না- এ দুঃখ আমি রাখি কোথায়?

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম সারওয়ার হোসেন কালবেলাকে জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। শুক্রবার ওই শিশুকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নিহতের লাশ শুক্রবার ময়নাতদন্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেড়ে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

মরিশাসে ফের চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

২৩ ঘণ্টা ধরে মাদারগঞ্জ-ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

খাদ্যের অপচয় রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী কার্যক্রম চলমান : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছে যেসব দেশ

বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীনতার প্রমাণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রির অভিযোগ

‘মমতার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে হাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি’

যুদ্ধবিরতির পরেও লেবাননে সাড়ে ৩ হাজার বার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ঈদে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি, সংসদে ক্ষোভ

১০

১৪০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১১

‘১১০ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ কর্মমুখী কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে’

১২

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান-ইয়েমেনের পদক্ষেপে খুশি হামাস

১৩

পাঁচ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৪

সরকারের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

১৫

বাসায় মিলল মুক্তিযোদ্ধার পচাগলা লাশ

১৬

বদলা নিল ইরান, ইসরায়েলের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা

১৭

এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতির পরদিনই বাড়ল অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া

১৮

১৩ ছক্কার তাণ্ডবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড বাংলাদেশি ব্যাটারের

১৯

ঝিনাইদহে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

২০
X