

মহান বিজয় দিবসে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর কাট্টলীতে সাগরতীরের টোল রোড সংলগ্ন অস্থায়ী শহীদ স্মৃতিসৌধে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এরপর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মেয়র বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিজয়ের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেইসব শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। স্বাধীনতার সুফল ধরে রাখতে এবং মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
এ সময় মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরে একে একে শহীদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হুমায়ন কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও কর্মকর্তারাও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সেখানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। একই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীর আউটার স্টেডিয়াম, লালদীঘি পাড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের কথা বিবেচনায় শিশু পার্ক, ডিসি পার্ক, জাদুঘর ও চিড়িয়াখানা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র ও প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা শিশু একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।