

হাকালুকি হাওরের সরকারি বিভিন্ন জলমহালে চলছে অবৈধ ফিসিং কার্যক্রম। ইজারাদাররা জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ও ইজারা শর্তের তোয়াক্কা না করেই জলমহাল শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে মাছের বংশ, জলজ উদ্ভিদ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। নির্বিচারে জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণ যজ্ঞ চললেও নির্বাক প্রশাসন।
জানা গেছে, ছোট-বড় আড়াই শতাধিক জলমহাল রয়েছে হাকালুকি হাওরে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি বিলকে অভয়াশ্রম হিসেবে ইজারা দেয়নি সরকার। অন্যান্য বিলগুলোকে ইজারা দিয়ে থাকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি জলমহাল ইজারা নিলেও মূল বিনিয়োগে থাকেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। অনেকে জলমহাল ইজারা নিয়ে ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে মাছ আহরণ করে। আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই অবৈধভাবে ফিসিং করতে থাকে।
হাকালুকি হাওরের প্রায় ৭০ একর আয়তনের দুধাই বিল (বদ্ধ) জলমহালটির রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে ১৪৩২ সনের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত খাস কালেকশনের জন্য ইজারা পান বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুর্শিবাদকুরা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ। জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর তাকে জলমহালের দখল বুঝিয়ে দিয়েছে। এছাড়া জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি একই মেয়াদের জন্য চান মিয়াকে ৫৫৬ একরের পোয়ালা বিলের রাজস্ব আদায় করতে খাস কালেকশন ইজারা প্রদান করে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, অন্তত একমাস/দেড়মাস আগেই দুধাই বিলে পানির মেশিন বসিয়ে বিল সেচে মাছ ধরে নিয়ে গেছে ইজারদাররা। দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর জেলা কিংবা উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় ভূমি প্রশাসন আর খোঁজখবর নেয়নি, ইজারাদাররা নীতিমালা অনুসরণ ও ইজারা শর্ত মেনে মাছ আহরণ করছে কি-না। জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতায় ইজারাদাররা বিল শুকিয়ে মাছের বংশ ধ্বংসের পাশাপাশি জলজ উদ্ভিদ ও হাওড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে দিয়েছে। এ যেন দেখার কেউ নেই।
৫৫৬ একরের পোয়ালা বিল ও ৭০ একরের দুধাই বিলে নেই এক ফোঁটা পানি। অথচ ইজারাদারের সঙ্গে বিলে তিন ফুট পানি রেখে মাছ আহরণের চুক্তি রয়েছে। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে মেশিন বসিয়ে বিল শুকিয়ে কাদার নিচের মাছও লুটে নেওয়া হয়েছে। এই চিত্র শুধু হাকালুকির দুধাই আর পোয়ালা বিলে নয়, প্রায় প্রত্যেক জলমহালেই চলছে এমন নির্বিচার মৎস্য নিধন। একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি বলেন, পোয়ালা বিল ও দুধাই বিল খাস কালেকশনে নিয়ে দুজন ইজারাদার মাছের ও বিলের যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে তা আগামী ১০ বছরেও পূরণ হওয়ার নয়। তারা মাছ ও বিল ধ্বংস করে দিয়েছে। শুকিয়ে মাছ ধরায় নানা কীটপতঙ্গ, জলজ উদ্ভিদ ও ভেষজ ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুই বিলে হাকালুকির বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ ‘মাখনা’র অস্তিত্ব ছিল। কিন্তু বিল শুকিয়ে তা ধ্বংস করে দিয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া বলেন, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী বিল শুকিয়ে মাছ ধরার সুযোগ নেই। বিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি রেখে মাছ শিকার করতে হয়। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।