

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আমরা পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল দেই কিন্তু সেই পেট্রোল চোরাচালানি হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে এখন বৈশ্বিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের যুদ্ধে সারা বিশ্বে, পৃথিবীর সব জায়গায় বিদ্যুৎ এবং তেলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। বাংলাদেশ একটা জায়গা, এখনো বিদ্যুতের এক পয়সা দাম বাড়েনি। তেলের দাম ও বাড়ানো হয়নি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে জামতৈল গ্রামে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তেলের ব্ল্যাক মার্কেটিং এবং পেট্রোল পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমি মসজিদের মধ্যে বলেছি, গত বছর থেকে এ বছরে সিরাজগঞ্জে দুই গুণ বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে, তারপরেও সিরাজগঞ্জে পেট্রোল পাম্পে গেলে বলে পেট্রোল ঘাটতি। এর কারণ হচ্ছে একটা পেট্রোল পাম্পে এক লরি তেল দিলে দুই তিন দিন সময় লাগতো বিক্রি করতে। এখন এমন ভিড় হয় এক লরির তেল দুই তিন ঘণ্টায় বিক্রি করে শেষ করে দেয়। তখন আপনারা বলেন, পেট্রোল পাম্প বন্ধ, তেল নাই, তেল ছিল কিন্তু তেল মজুত করার জন্য ব্ল্যাক মার্কেটিং চলে। বেশি বেশি মোটরসাইকেল গাড়িতে তেল তুলে নিয়ে জারের মধ্যে তেল ভর্তি করে আবার তেল নিতে আসছে। এই যে আমাদের সামাজিক অবক্ষয়, সরকারি জিনিসের অপচয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা তেলের দাম সস্তা রেখেছি, এর অর্থ এই না, কেউ সেটাকে ব্ল্যাক মার্কেটিং করে মুনাফা করে নেবে। আমরা সস্তা রেখেছি, এ দেশের মানুষ যেন সস্তায় পেট্রোল পায়। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। আমার কাছে রিপোর্ট আছে, অনেক পেট্রোল পাম্প আছে, তিন গাড়ি তেল পায়, প্রতিদিন এক গাড়ি তেল পাম্পে দেয়, মানুষকে দেয় আর দুই গাড়ি ব্ল্যাক মার্কেটিং করে। ব্ল্যাক মার্কেটিং ঠেকানো মন্ত্রীর একার পক্ষে কি সম্ভব? আমি নিজে গিয়ে রেইড করছি। পুলিশ গিয়ে রেট করছে।
ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কায়েস, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ সরকারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতারা।