

ডেনমার্কের তারকা মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন আবারও ম্যাচ চলাকালীন মাঠে লুটিয়ে পড়ে ফুটবল বিশ্বকে উদ্বেগে ফেলেছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, হাসপাতালে নেওয়ার পর তার জ্ঞান ফিরেছে এবং তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে ডেনিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
রোববার (৭ জুন) ইউক্রেনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে হঠাৎ মাঠে পড়ে যান ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার। ঘটনাটি ঘটতেই খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবা শেষে তিনি নিজেই হেঁটে মাঠ ত্যাগ করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন ডেনমার্ক ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল।
ঘটনার পর ডেনিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, এরিকসেন জ্ঞান ফিরেছে এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।ডেনমার্ক জাতীয় দলের চিকিৎসক মর্টেন বোয়েসেন জানান, এরিকসেন অল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তবে দ্রুতই তার জ্ঞান ফিরে আসে এবং চিকিৎসকরা তার সঙ্গে কথা বলতে সক্ষম হন।
এ চিকিৎসক জানিয়েছেন, এরিকসেনের শরীরে স্থাপিত ইমপ্লান্টেবল কার্ডিওভার্টার ডেফিব্রিলেটর (আইসিডি) ডিভাইসটি ঠিকভাবে কাজ করেছে বলেই মনে হচ্ছে। কী কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা জানতে হাসপাতালে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
২০২১ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এরিকসেনকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। পরে তার শরীরে আইসিডি ডিভাইস বসানো হয়, যা হৃদযন্ত্রের অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম।
সেই ঘটনার পর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে ২০২২ সালে ইংলিশ ক্লাব ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরেন তিনি। পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে তিন মৌসুম খেলেন। বর্তমানে জার্মান ক্লাব উলফসবার্গের হয়ে খেলছেন এই ডেনিশ মিডফিল্ডার।
ঘটনার সময় ডেনমার্ক ও ইউক্রেনের খেলোয়াড়রা দ্রুত এরিকসেনকে ঘিরে মানববৃত্ত তৈরি করেন, যাতে চিকিৎসকরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। ২০২১ সালের ইউরোতেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেও নেমে আসে উদ্বেগ ও নীরবতা।
ডেনমার্কের অধিনায়ক পিয়েরে-এমিল হইবিয়ার্গ বলেন, মুহূর্তটি দলের জন্য ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি জানান, সবাই জানতেন অতীতে এরিকসেনের সঙ্গে কী ঘটেছিল। তাই তাকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপ এবং এরিকসেনের সুস্থতার খবর স্বস্তি এনে দিয়েছে।
ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা মাঠে বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সমর্থন জানান। ডেনমার্ক কোচ ব্রায়ান রিয়েমার বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এরিকসেন ভালো আছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
এরিকসেনের এটি ছিল ডেনমার্কের জার্সিতে ১৫১তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। পরে তিনি চিকিৎসকদের মাধ্যমে সতীর্থদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি ভালো আছেন এবং সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের হৃদরোগজনিত ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে এরিকসেন বলেছিলেন, আইসিডি ডিভাইস থাকার কারণে তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন এবং মাঠে ফেরার বিষয়ে তার কোনো ভয় নেই।
ডেনমার্ক ও ইউক্রেন—দুই দলই আসন্ন বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রীতি ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন ফুটবল বিশ্বের প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেনের শারীরিক অবস্থা।