কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নেত্রকোনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের চিত্র। ছবি : কালবেলা
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের চিত্র। ছবি : কালবেলা

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে বড়খাপন ও পোগলা ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে ইসরাফিল (২৬), হেলাল শেখ (৬৫), মো. ইলিয়াস (৩৫), মুহাম্মদ (৪৫), আনিস (২২), রুবেল (৩০), জুয়েল (২৫), রব মিয়া (৪২), আজাহারুল ইসলাম (২৬), মাসুদ (৪০), জামাল (৪০), আ. কাইয়ুম (৩৫), হাক্কুল (৩২) ও তফিকুল ইসলাম (২৫)সহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, দত্তখিলা-নাগেরগাতী এলাকায় নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে মেদার বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে দত্তখিলা খালে নামতে পারছিল না। এতে একদিকে বড়খাপন ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের বোরো ধান রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ করেন, অন্যদিকে ওই বাঁধের ফলে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পোগলা ইউনিয়নের কান্দুলিয়া বিলের বিস্তীর্ণ জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়ে।

এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দুই ইউনিয়নের কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় পোগলা ইউনিয়নের কিছু লোক ফসল রক্ষা বাঁধের একটি অংশ কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের এলাকার প্রায় ৯০০ একর জমি জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও সমাধান না পাওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাঁধ আংশিক কেটে দেন। এরপর বড়খাপন ইউনিয়নের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়।’

অন্যদিকে বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুই পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় পানি নিষ্কাশন ও ফসল সুরক্ষায় একটি সমন্বিত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইনজীবী বারে হামলা

নির্বাচনের একদিন পরই বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগ

ভারতে আটক ৯১ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছে, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপ্তিকে বিয়ে করা মুশতাক

রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

মরিশাসে ফের চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

২৩ ঘণ্টা ধরে মাদারগঞ্জ-ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

খাদ্যের অপচয় রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী কার্যক্রম চলমান : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছে যেসব দেশ

১০

বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীনতার প্রমাণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

১১

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের টিন বিক্রির অভিযোগ

১২

‘মমতার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে হাদি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি’

১৩

যুদ্ধবিরতির পরেও লেবাননে সাড়ে ৩ হাজার বার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

১৪

ঈদে ৬ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন পাননি, সংসদে ক্ষোভ

১৫

১৪০টির বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৬

‘১১০ প্রতিষ্ঠানে ৫৫ কর্মমুখী কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ চলছে’

১৭

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান-ইয়েমেনের পদক্ষেপে খুশি হামাস

১৮

পাঁচ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৯

সরকারের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী

২০
X