সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ এএম
আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম
অনলাইন সংস্করণ

এক নজর ছেলেকে দেখার আকুতি বাবার

নিহত আতাউর রহমান। ছবি : কালবেলা
নিহত আতাউর রহমান। ছবি : কালবেলা

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় দেড় বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমানো নীলফামারীর যুবক আতাউর রহমান (২৭) আর জীবিত ফিরে এলেন না।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সৌদি আরবের তাবুক শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে শোকের চেয়েও বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার খরচ। প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন হলেও তা জোগাড় করতে না পারায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে পরিবার।

নিহত আতাউর রহমান ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ছপিয়ার রহমানের ছেলে। আতাউরের পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, এক বোন ও দুই ভাই। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে তাবুক শহরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আতাউর। তিনি সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। একইদিন সন্ধ্যায় সহকর্মীদের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছায়।

নিহতের বাবা ছপিয়ার রহমান জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও জমিজমা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র ৩০ শতাংশ জমির ওপর একটি ছোট ঘর তুলে কোনোমতে বসবাস করছেন তারা।

তিনি বলেন, সংসারের দুঃখ দূর করতে জমি বন্ধক এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠাই। দেড় বছরে সে কিছু টাকা পাঠিয়ে ঋণের একটি অংশ শোধ করেছিল। কিন্তু এখনো প্রায় ৩ লাখ টাকা বাকি আছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগের দিন (৭ এপ্রিল) সকালে বাবার সঙ্গে শেষবার কথা বলেন আতাউর। তিনি বলেছিলেন, ‘সবাই ভালো থাকবা, কয়েক দিনের মধ্যে কিছু টাকা পাঠামু, যতটা পার ঋণ শোধ কইরো।’

ছেলের শোকে পাগলপ্রায় মা আতোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকালেও ফোন দিছিল, কইল-মা, কাজে যাইতাছি। ওইটাই ছিল আমার ছেলের শেষ কথা।

বাবা ছপিয়ার রহমান ভেঙে পড়া কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে ছিল সংসারের একমাত্র ভরসা। এখন আমরা একেবারে নিঃস্ব। আমি শুধু একবার ছেলেকে দেখতে চাই। কিন্তু লাশ আনতে নাকি ৪ লাখ টাকা লাগবে— এত টাকা আমি কোথায় পাব?

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। মরদেহ দেশে আনার জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয়ভাবেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অসহায় পরিবারটি এখন সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহানুভূতির দিকে তাকিয়ে আছে— যেন অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় সন্তানের মুখটি দেখতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভূমিকম্পের সময় যে দোয়া পড়বেন

বাসচালককে মারধর ও ছাত্রদল কর্মীকে কোপানোর অভিযোগ  

দেশের যেসব জেলায় ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল যেখানে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

খেলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি

আরও বাড়ল ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়

লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে আবারও যুদ্ধে নামব : ইরান

‘বিশ্ব এলপিজি দিবস-২০২৬’ উদযাপন করল ফ্রেশ এলপি গ্যাস

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

১০

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

১১

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

১২

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

১৩

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

১৪

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

১৫

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

১৬

সেই তিন ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

১৭

চমেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ইনডোর ও আউটডোর শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

১৮

এনসিপির ফল উৎসবে হামলা

১৯

সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে

২০
X