ডিমলা, রৌমারী ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

পুশইনের প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : কালবেলা
১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : কালবেলা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুশইন প্রচেষ্টা ও সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, সাতক্ষীরা ও মৌলভীবাজার, ফেনীসহ বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচি থেকে ভারতকে অবিলম্বে পুশইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তারা বলেন, সীমান্তে হত্যা, নির্যাতন ও পুশইনের মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থি।’ একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নীলফামারী

ডিমলা উপজেলার কলোনি বাজারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ভারতের একতরফা আগ্রাসী নীতি এবং সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় তারা ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’, ‘পুশইনের ষড়যন্ত্র রুখে দাও’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেব না’ এবং ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হও’ নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ডিমলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রুকনুজ্জামান বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নীলফামারী জেলা মজলিসে শুরা সদস্য ও ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা মুজিবুর রহমান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ভারত সরকার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে গেলে সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশিদের হত্যা করা হচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির একটি ঘৃণ্য কৌশল বলে তারা দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।’ এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সরকারকে আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি যে সাহস, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, তার জন্য আমরা তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সীমান্তে অন্যায় গুলি ও পুশইনের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনে দেশের ১৮ কোটি মানুষ এবং ১১ দলীয় জোট বিজিবির পাশে থাকবে।’

তারা বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় শুধু বিজিবি নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিককেও সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। জাতীয় স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।’

কুড়িগ্রাম

রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় আগ্রাসন ও পুশইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

তারা বলেন, ‘আগামীতে আবারও ভারতীয় আগ্রাসন, আধিপত্য ও পুশইন হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় জনতা এ দেশের জন্য লড়ে যাবে। দেহে এক ফোঁটা রক্ত থাকা অবস্থায় ভারতীয় আগ্রাসন আমরা মেনে নেব না।’

এসময় ২০০১ সালের বড়াইবাড়ি যুদ্ধের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, ‘বড়াইবাড়ি যুদ্ধে যেমন আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, প্রয়োজনে আবারও দেখিয়ে দেব। তবুও ভারতীয় আগ্রাসন ও অবৈধ পুশইন মানব না।’

সাতক্ষীরা

এছাড়াও, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভা করেছে ১১ দলীয় জোট। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সাতক্ষীরার ভারত সীমান্তসংলগ্ন ভোমরা স্থলবন্দরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

১১ দলীয় জোটের প্রধান ও জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মুহা. ইজ্জতুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অন্যায়, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড দেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের সব ধরনের আগ্রাসন ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।’

তিনি সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় বারবার ‘পুশইন’ ও অনুপ্রবেশের যে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, সাতক্ষীরা পৌর আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, এবং এনসিপির জেলা যুগ্ম সম্পাদকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

মৌলভীবাজার

সীমান্তে নিরীহ নাগরিক হত্যা ও অবৈধ পুশইনের প্রতিবাদে কমলগঞ্জ উপজেলায় মানববন্ধন করেছে ১১ দলীয় জোট।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় স্থানীয় আদমপুর বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং নায়েবে আমির সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি মো. মনসুর আলী, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটি (এনসিপি)র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আবু হানিফা, উপজেলা এনসিপির সদস্য মুশাহিদ আহমদ, কমলগঞ্জ পৌর জামায়াতের সভাপতি আব্দুল হাই, আদমপুর ইউনিয়ন সভাপতি সাদ উদ্দিন ফায়াজ, খেলাফত মজলিস আদমপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শফিক আহমদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ এবং অবৈধ পুশ-ইনের বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তারা বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা রক্ষায় সকল দেশপ্রেমিক নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

ফেনী

শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের ট্রাংক রোডে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

জোটের নেতারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে যেভাবে পুশইন ও অপতৎপরতা চালাচ্ছে এটি পৃথিবীর কোনো সীমান্তে নজির নেই। এটি একটি অসভ্য তৎপরতা। ভারত যদি এ অসভ্যতা বন্ধ না করে, বাংলাদেশের সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রিত হয় সমুচিত জবাব দেবে।’

এ সময় বক্তারা সরকারকে নতজানু মানসিকতা পরিহার করে দেশের স্বার্থে ভারতীয় বিষয়ে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান।

জামায়াতের ফেনী জেলা আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের জেলা সভাপতি মুজাফফর আহমদ জাফরী, খেলাফত মজলিসের নেতা নাজমুল আলম, জেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আ ন ম আবদুর রহীম, ছাত্রশিবিরে ফেনী জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান, এনসিপির যুব পার্টির সভাপতি পারভেজ আহাম্মদ, ইসলামী ছাত্র শিবিরের শহর সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ফেনী জেলা সভাপতি মোহাম্মদ ইসমাইল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ফেনী জেলা সভাপতি ফারুক আহমেদ আজাদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের খেজুর চত্বর, বড় জামে মসজিদ হয়ে জহিরিয়া মসজিদ ও ট্রাংক রোড প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা ভারতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রূপগঞ্জে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বিশ্বকাপের আগে মাঠের বাইরে ঝড় তুলছেন ব্রাজিলের কোচ

পাকিস্তানের বাজেট ঘোষণা, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান কত?

রোববার সই হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক

এবার বিনামূল্যে দেখাবে বিশ্বকাপ, জানুন কীভাবে?

সীমান্তে অবৈধ পুশইন ও ফ্যাসিবাদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

কিশোরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে ভাঙচুর

ব্রাজিল ম্যাচের আগে মরক্কোর দলে বড় ধাক্কা, ছিটকে গেলেন দুই তারকা

বেপরোয়া ট্রাকের চাপায় প্রাণ গেল মাদ্রাসাছাত্রের

সোনারগাঁয়ে ২০ হাজার মানুষ নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও দোয়া মাহফিল

১০

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ১০৪ নাবিক নিহতের প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের 

১১

কক্সবাজার সৈকতে ৩ প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

১২

মৌলভীবাজারে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

১৩

যশোরে আদ্-দীন হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

১৪

পুশইনের প্রতিবাদে বিভিন্ন জেলায় ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

১৫

ফেসবুক বিভ্রাটে ব্যক্তিগত তথ্য হারানোর শঙ্কা কতটা

১৬

তারকাদের নিয়ে ক্রিটিসিজমটা বেশিই হয় : নুসরাত ফারিয়া

১৭

নামে সোনা, কিন্তু সোনা নয়! বিশ্বকাপের তিন অমূল্য পুরস্কারের বিশেষত্ব কী?

১৮

দুই দশক পর তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর ঘিরে উচ্ছ্বাস

১৯

‘আগস্টের শেষে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলবে’

২০
X