সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সন্তানদের নির্যাতনে স্বামীর ভিটাতেও ঠাঁই মিলছে না শতবর্ষী বৃদ্ধার

শতবর্ষী দেলজান বেওয়া। ছবি : কালবেলা
শতবর্ষী দেলজান বেওয়া। ছবি : কালবেলা

শতবর্ষী দেলজান বেওয়া (১০০)। বয়স ও শারীরিক অসুস্থতার ভারে নুয়ে পড়া এই বৃদ্ধার ঠাঁই মিলছে না নিজেরই স্বামীর ভিটায়। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের রাউতান গ্রামে সন্তানের হাতেই তিনি প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেলজান বেওয়া জানান, প্রায় ৩৫ বছর আগে তার স্বামী ময়নাল খদগীর ৫ বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়ি রেখে মারা যান। বর্তমানে তার ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও মা হিসেবে তাকে কেউ ভরণপোষণ বা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না। গত বছর স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে স্বামীর ভিটায় বসবাসের জন্য ৪ শতক জায়গা পেলেও সেখানে শান্তিতে থাকতে পারছেন না তিনি।

বৃদ্ধার অভিযোগ, ভিটায় ঘর তোলার পর থেকে ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিরা তাকে সেখানে থাকতে দিচ্ছে না। টিউবওয়েল ও ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে ভিটা থেকে উচ্ছেদের জন্য নিয়মিত মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীর মেয়ে সীমা জানান, ভাইবোনেরা মিলে মাকে ভরণপোষণ না দিয়ে উল্টো তার এবং বোনের অংশের সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে ভাতিজা এলিট ও তার মা শরিফুন খাতুন তাকে নিয়মিত গালিগালাজ ও মারপিট করেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত নাতি এলিট এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দাদি ও ছোট ফুফুর কাজই হলো যেকোনো বিষয়ে প্রশাসন ও আদালতে অভিযোগ জানানো।

ছেলে ছানোয়ার হোসেনের দাবি, জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামপ্রধান আব্দুল হান্নান জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় বহুবার দরবার-সালিশ হয়েছে, কিন্তু এই পরিবারের সদস্যরা কোনো সালিশি বিচারই মানতে রাজি নন।

শতবর্ষী এই বৃদ্ধার নিরাপত্তার বিষয়টি এখন স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দেলজান বেওয়া এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে কাটানোর জন্য আইনি সুরক্ষা ও সহযোগিতা চেয়েছেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করল জাপানি সমর্থকরা

জামায়াত কর্মীকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা

বিশ্বকাপের পরিবর্তে ক্ষুধার্তদের চাহিদা পূরণের আহ্বান আহমাদুল্লার

চরের নারীদের স্বাস্থ্য সংকট / গরমে বাড়ছে জরায়ু ও ত্বকজনিত জটিলতা

৭ গোলের তাণ্ডবে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে জার্মানির বিশ্বরেকর্ড

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির পলক, ভিডিও ভাইরাল

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, মরদেহ মিলল নদীতে

আজ রাত থেকেই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে : ইরান

দেশে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

শ্রীমতী অনিমা রানী রাহার পরলোকগমন

১০

আয়ারির জোড়া গোলে তিউনিশিয়াকে উড়িয়ে দিল সুইডেন

১১

মেট্রোরেলের ৯ স্টেশন ও গুলশানে ফ্রেশ সুপার মার্ট চালু করল এমজিআই

১২

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ৪ দেশ

১৩

বাঁচতে চায় আবু বক্কর, সাহায্যের আবেদন

১৪

পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইরানের সঙ্গে দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না ইসরায়েল : ট্রাম্প

১৫

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মাঠে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ

১৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির কারণে ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি ডানপন্থিরা

১৭

জয়পুরহাটে হাট-বাজারে মাছ ধরার চাঁই বিক্রির ধুম

১৮

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বিধ্বস্তে ১২ আরোহীর মৃত্যু

১৯

পার্থকে সভাপতি করে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন

২০
X