

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৩ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে গত ১২ জুন রাতে নিজ শহর চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি হন নাঈম হাসান। শুরু থেকেই তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও বৈরী আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
কোয়াবের দাবি, নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলে তার গলা চেপে ধরা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি। বরং তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নাঈমকে খুলশী থানায় নেওয়া হলে সেখানেও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে তিনি পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব উল্লেখ করে, দেশের যে কোনো নাগরিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।
কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতোমধ্যে নাঈম হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানানো হয়েছে। তিনি নাঈমকে আশ্বস্ত করেছেন যে দেশের ক্রিকেটার সমাজ তার পাশে রয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে জাতীয় দলের অফস্পিনার নাঈম হাসান অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের হাতে তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের পর ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এক এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।