নড়াইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নড়াইলে টাকা না পেয়ে ঘরের টিন খুলে নিল পাওনাদার

ভঙুর বাড়ি। ছবি : কালবেলা
ভঙুর বাড়ি। ছবি : কালবেলা

নড়াইলে পাওনা টাকা না পেয়ে জাফর সিকদারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের চালার টিন, বেড়া, রান্না ঘরের খুঁটি খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রুখালী গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার, ৪ হাজার, ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) অহিদ বিশ্বাসের ছেলে মিজানুর বিশ্বাস,কাদের বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাস, রোকন বিশ্বাসের ছেলে মিকাইল বিশ্বাস, আকিদুল বিশ্বাসের ছেলে ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে এক দল জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের চালার টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরের দিন ২য় দফায় আবার হামলা চালিয়ে রান্না ঘরের চালা, খুঁটি ও বসতঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যায় তারা।

জাহিদ সিকদারের বাবা জাফর সিকদার বলেন, রুখালী গ্রামের কিছু সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বসতঘর, রান্না ঘর, গোয়ালঘরের টিন খুলে নিয়ে গেছে। এমনকি ঘরে থাকা সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।

ঘরের টিন ও আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় ঘরটির ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন জাহিদের দাদি খাদিজা বেগম (৮০)। হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে আকুতি মিনতি করে নিজের ঘর রক্ষা করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয় দাদির।

খাদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তারা হঠাৎ করে এসে ঘরের টিন খুলতে থাকে। ভ্যানে করে ঘরের টিনগুলো নিয়ে যায়। এ সময় আমি লাঠি ভর দিয়ে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাই। আমি বুড়ো মানুষ, আমার কথায় পুলিশ আসেনি। একজন পুলিশ আসলেও আমার ঘর তারা ভাঙতে পারত না।

অভিযুক্তদের একজন মিকাইল বিশ্বাস বলেন, জাহিদ একজন চিটার প্রকৃতির লোক। তার কাছে আমি টাকা পেতাম। টাকা বিষয় না, একসঙ্গে চলার সুবাদে আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তাকে ব্যবহার করতে দি। পরে জানতে পারি আমার ফোন সে অন্য লোকের নিকট বন্ধক রেখেছে। এখন ফোন না দিয়ে সে পালিয়েছে। সে যুব সমাজ নষ্ট করে ফেলছে। ও যাতে আর বাড়ি না আসতে পারে তাই তার বাড়ি, ঘরের সব খুলে নিয়ে বিক্রি করে আমার ফোন আমি ছাড়ায় নিয়ে এসেছি।

মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার দাস বলেন, এ বিষয়ে আমার নিকট কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। আমার কাছে কেউ আসেনি। ভুক্তভোগী পরিবার আসলে অবশ্যই তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, ঘরের চালা খুলে নিয়ে গেছে এমন কোনো অভিযোগ থানায় করেনি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন

‘অবাস্তব কিছু দেখানো হয়নি’ সমালোচনা প্রসঙ্গে নীহা

বিয়ের অনুষ্ঠানে মসজিদে খেজুর ছিটানো যাবে কি

প্রচুর রাগ হলেও শাকিবই আমার রাগ ভাঙায়: বুবলী

তামিম-মোসাদ্দেকে ভর করে অজিদের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিল টাইগাররা

বিতর্কের মুখে ‘পেদ্দি’ থেকে মুছল জাহ্নবীর আবেদনময়ী দৃশ্য

একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন, আটকে গেল খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্প

১০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা সমর্থকের ব্রাজিলে যোগদান

ডাকাতি করতে গিয়ে মা-মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ‘ধর্ষণ’

বছরে কতবার পরিষ্কার করা হয় মসজিদে নববী?

১০

আত্মসমর্পণের পর পাঁচ আ.লীগ নেতা কারাগারে

১১

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা নিহত

১২

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন

১৩

কিউবায় ১৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প

১৪

পরম আমাকে বিয়ে করেনি বলে তাদের ভীষণ দুঃখ: রাইমা

১৫

চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু

১৬

আ.লীগ নেতা রানা গ্রেপ্তার

১৭

দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, বহু হতাহত

১৮

পাবনায় ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন, নিহত ৩

১৯

নতুন কিছু করার অঙ্গীকার শি-কিমের

২০
X