রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ‘তিন তাস’ আতঙ্ক

ফেরির ওপর প্রকাশ্যে চলছে তিন তাসের জুয়া। ছবি : কালবেলা
ফেরির ওপর প্রকাশ্যে চলছে তিন তাসের জুয়া। ছবি : কালবেলা

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া রুট। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাক এই নৌরুট ব্যবহার করে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করছে। কিন্তু রাত নামলেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ভিন্ন এক চিত্র দেখা যায়—যেখানে ফেরিতে প্রকাশ্যে চলছে ‘তিন তাস’ নামের জুয়ার ফাঁদ, আর তার আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে সংঘটিত হচ্ছে ডাকাতি।

দিনের ব্যস্ততা শেষে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামতেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পাল্টে যায় পরিবেশ। যাত্রীদের ভিড়, যানজট আর ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

অভিযোগ রয়েছে, ১০-১২ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় করে ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিতে ওঠে এবং পরিকল্পিতভাবে তাদের অপকর্ম শুরু করে।

চক্রটির সদস্যরা যাত্রী ও চালকদের কাছে সহজ ভাষায় ‘তিন তাস’ খেলার প্রস্তাব দেয়। ‘একশ টাকায় তিনশ’, ‘পাঁচশতে পনেরোশ’ কিংবা ‘পাঁচ হাজারে পনেরো হাজার’—এমন লোভনীয় অফার দিয়ে মুহূর্তেই মানুষকে আকৃষ্ট করে তারা।

প্রথমে কয়েকজন সহযোগীকে দিয়ে জেতানোর অভিনয় করা হয়, যাতে অন্যরা উৎসাহিত হয়ে খেলায় অংশ নেয়। একপর্যায়ে ভিড় বাড়লে শুরু হয় আসল খেলা—চাতুর্য, প্রতারণা এবং ভয়ভীতির মিশ্রণে মুহূর্তেই হারিয়ে যায় মানুষের সর্বস্ব।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খেলার একপর্যায়ে চক্রটি দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। এরপর যাত্রীদের কাছে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, ঘড়িসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা মারধরের শিকারও হতে হয়।

আলি নুর নামে এক বাস সুপারভাইজার বলেন, এটা কোনো সাধারণ জুয়া না, এটা একটা বড় সিন্ডিকেট। ফেরির স্টাফ আর কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতা ছাড়া এমন কাজ সম্ভব না।

চুয়াডাঙ্গাগামী যাত্রী মিলন বলেন, লোভে পড়ে একবার খেলেছিলাম। ১০ হাজার টাকা হারিয়েছি। এখানে কেউ জিততে পারে না—সবটাই সাজানো।

আফজাল নামে এক পথচারী জানান, আমি একবার প্রতিবাদ করেছিলাম, উল্টো মার খেয়েছি। সবাই ভয় পায়, কেউ কিছু বলতে চায় না।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মিজান নামে একটি রো-রো ফেরির সিনিয়র চালক বলেন, ফেরি কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং আমরা নিয়মিত মাইকিং করে যাত্রীদের সতর্ক করি, যাতে তারা এই প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে।

নৌপুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নৌপুলিশ কোনোভাবেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা নিয়মিত টহল দিচ্ছি এবং সুযোগ পেলেই সদস্যদের গ্রেপ্তার করছি। তবে আমাদের লোকবল সীমিত।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও সমন্বয় করে দেখা প্রয়োজন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনা যেন মিনি হাসপাতাল!

বিশ্বকাপ এলেই রং বদলান নেইমার

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়ে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পড়লেন জামায়াত আমির

সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে নতুন সমীকরণ, আলোচনায় নাসিম ফারুক খান মিঠু

বিশ্বকাপে সেদিন আবির্ভাব হয়েছিল এক ‘ফুটবল দেবতার’, নাম তার ম্যারাডোনা

লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, এস আই প্রত্যাহার

বাজেট ২০২৬-২৭ / মানবসম্পদ উন্নয়নের রূপরেখা চান বিশেষজ্ঞরা

সেই তিন ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হলো ১২ লাখ টাকা

চমেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা, ইনডোর ও আউটডোর শাটডাউনের হুঁশিয়ারি

এনসিপির ফল উৎসবে হামলা

১০

সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে

১১

মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, কারাগারে দুই যুবক

১২

বিএমডিসির নিবন্ধনবিহীন চিকিৎসকের পক্ষে মানববন্ধন, মামলা প্রত্যাহারের দাবি

১৩

ফেনী জেলা বিএনপির মিডিয়া সেলের কমিটি অনুমোদন

১৪

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশের পর সংসদ সচিবালয়ের তদন্ত কমিটি

১৫

সাভার থানা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা, সভাপতি মাশফি-সম্পাদক সামির

১৬

‘বাপের দোয়া’ থেকে ‘ক্রিকেটের দোয়া’ করতে চান তামিম

১৭

‘আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি’

১৮

জঙ্গল সলিমপুরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ দিলেন এসপি মাসুদ আলম

১৯

বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে টিভির শোরুমে ক্রেতাদের ভিড়

২০
X