পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

পাবনায় পদ্মা নদীর তীরে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর হত্যার রহস্য পাঁচ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন মূল আসামিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার ও লাশ গুমে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) রেজিনূর রহমান।

গ্রেপ্তাররা হলো- পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মৃত কাশেম প্রামানিকের ছেলে ও প্রধান অভিযুক্ত মো. নাঈম, মো. শফিক শেখের ছেলে মো. ইয়াসিন শেখ এবং মো. শিমুল প্রামানিকের ছেলে মো. তুহিন প্রামানিক (১৭)।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরীর নাম রিয়া খাতুন (১৫)। সে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের মো. আজিজুল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় মাওলানা কাসিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক লেনদেনের জেরে রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, চাচাতো ভাই নাঈমের সঙ্গে রিয়ার দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সকাল ১১টার দিকে নাঈমের বাসায় বেড়াতে যায় রিয়া। সেখানে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা তীব্র বিরোধে রূপ নিলে নাঈম ধারালো চাকু দেখিয়ে রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে নাঈম তার সহযোগী ইয়াসিন ও তুহিনকে ডেকে আনে। এরপর তারা রিয়ার মরদেহ একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে তুলে পদ্মা নদীর তীরে ফেলে রেখে আসে।

পুলিশ জানায়, অজ্ঞতনামা কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পরপরই পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহর নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম ছায়া তদন্তে নামে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করতে থানা পুলিশ, ডিবি এবং ডিএসবি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান আসামি নাঈম ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

উল্লেখ্য, বুধবার (০৩ মে) সকাল ১০টার দিকে সদরের ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগে প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে কে কোন পদ পেলেন

সরকারি ব্যাংকে বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এখনই আবেদন করুন

‘বাথরুমে বোনের কাটা মাথা দেখে চিৎকার দিয়ে চলে আসি’

কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল যুবকের লাশ

মামি-ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

তথ্য মন্ত্রণালয় ও বাফুফের মিশন সফল / বিশ্বকাপ ফুটবল দেখাবে বিটিভি, সঙ্গী টি-স্পোর্টস

চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ

যুক্তিতর্ক শুনানির আগে অসুস্থ রামিসা হত্যার আসামি স্বপ্না

১০ বছর পর আবারও ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে বেধড়ক মারধর, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

১০

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

১১

ঋতুপর্ণার জাদুকরী সেই গোলের নাম কেন ‘অলিম্পিক গোল’?

১২

আর্থিক লেনদেনের জেরে প্রেমিকাকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

১৩

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ১১১৮ জন

১৪

মহাসড়কে আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ১২

১৫

বিহারের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪

১৬

এবার জেমস বন্ড সাজে ডোনাল্ড ট্রাম্প

১৭

স্ত্রীর গর্ভে ৫ সন্তান, উন্নত চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না দরিদ্র রংমিস্ত্রি

১৮

সীমান্তে পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

১৯

বজ্রপাতে মা-ছেলের করুণ মৃত্যু

২০
X