

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার রেলপথের প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ রেলপথ দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্লিপারের ওপর দিয়েই প্রতিদিন দ্রুতগতিতে চলাচল করছে আন্তঃনগর, মেইল ও ঢাকাগামী ট্রেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপার প্রতিস্থাপন ও রেলপথ মেরামত না করলে যাত্রী নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সান্তাহার কিলোমিটার বোর্ড সেকশনের পিলার ২২৬/৩ থেকে সেকশন পিলার ২৩৩/০ পর্যন্ত এলাকায় শত শত রেলের স্লিপার ভেঙে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি।
উপজেলার বড়াল ব্রিজ এলাকা, মালঞ্চি রেলস্টেশন, মালঞ্চি বাজার লেভেল ক্রসিং, বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিং, ঠেঙ্গামারা লেভেল ক্রসিং, স্বরূপপুর লেভেল ক্রসিং এবং ইয়াছিনপুর রেলস্টেশনের লেভেল ক্রসিং এলাকায় অধিকাংশ কংক্রিট স্লিপার ফেটে ও ভেঙে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও অনেক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়ে আছে।
অনেক স্থানে রেললাইনের নিচের স্লিপার নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও নাট-বল্টু খুলে বেরিয়ে গেছে, আবার কোথাও স্লিপারের নাট-বল্টু চুরি হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে স্লিপারের ভেতরের লোহার তার বাইরে বের হয়ে রয়েছে। কোথাও একটি স্লিপার ভাঙা থাকলেও, আবার কোথাও একসঙ্গে ৪ থেকে ৫টি স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এসব স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দ্রুত মেরামত না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
মালঞ্চি রেলস্টেশনের পাশে পেড়াবাড়িয়া মহল্লার বাসিন্দা ওমর আলী মণ্ডল জানান, দীর্ঘদিন ধরে রেলের স্লিপারগুলো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। দ্রুতগতিতে ট্রেন চলাচল করায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্লিপারগুলো ভাঙা থাকায় ট্রেন চলাচলের কারণে আরও স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
রেল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এই রেলপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন আপ-ডাউন মেইল, আন্তঃনগর ও ঢাকাগামীসহ মোট ৩২টি ট্রেন চলাচল করে।
বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান আমিরুল ইসলাম এবং ইয়াছিনপুর লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যান ইরাক হোসেন জানান, রেললাইনের অনেক স্লিপার দীর্ঘদিন ধরেই ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে একসঙ্গে একাধিক স্লিপার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেললাইন থাকলে যে কোনো সময় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও জানান, অনেক আগেই রেল কর্তৃপক্ষ এসে ক্ষতিগ্রস্ত স্লিপারগুলো পরিদর্শন করে গেছেন, তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সান্তাহার ৬ আইএসের আওতাধীন বাগাতিপাড়া সীমার মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল মিস্ত্রি (মেট) কিরণ সরকার জানান, বাগাতিপাড়া রেলসীমার সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে তার দায়িত্বাধীন অংশে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি কংক্রিট স্লিপার ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। প্রতি ছয় মাস পরপর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার এলাকার রেলপথের প্রতিবেদন জমা দেন এবং প্রতিবেদনে এসব ভাঙা স্লিপারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ জানান, বিষয়টি তার জানা আছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ওই ভাঙা স্লিপারগুলো অপসারণ করে রেললাইন সংস্কার করা হবে।