

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ঈদযাত্রা ও ঘাটে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটের সুযোগে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে যাত্রী ও চালকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার একাধিক ঘটনার পর নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৬ জুন) থেকে তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) খোলা থাকায় কর্মস্থলে ফেরা শ্রমিকদের চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। এর মধ্যে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ৭ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ আরও বেড়ে যায়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় ২ কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চলন্ত অবস্থায় কিংবা যানজটে আটকে থাকা মানুষের হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
ট্রাকের হেলপার মো. শরিফ বলেন, আমি ট্রাকের ভেতরে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলাম। হঠাৎ একজন এসে হাত থেকে ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
রাকিব নামের এক যাত্রী বলেন, শুধু আমার সামনে আরও দুইজনের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একজন বাস সুপারভাইজার ও একজন নারী যাত্রীকে কান্না করতে দেখেছি। মনে হয় ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজ করছে। ফোনের চেয়ে সিমের ভেতরের তথ্যই মানুষের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আর মহাসড়কের পাশে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট সংলগ্ন সড়কের বড় একটি অংশ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে রয়েছে। রাতের বেলায় এ কারণে যাত্রী ও চালকদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বাড়ছে। তারা দ্রুত মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান পরিচালনার স্বার্থে সকাল ১০টা থেকে ৭ নম্বর ফেরিঘাটের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। বাসটি উদ্ধার শেষে বিকেল ৪টার দিকে ফেরিঘাটের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কাগজে-কলমে দৌলতদিয়া প্রান্তে সাতটি ফেরিঘাট থাকলেও বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট সচল রয়েছে। এর মধ্যে ৭ নম্বর ঘাট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় অন্য ঘাটগুলোতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, মো. সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ রুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে তিনটি ফেরিঘাট সচল আছে। যানবাহনের চাপ থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সাথী দাস বলেন, পরিস্থিতির ওপর প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি রয়েছে। যাত্রী ও চালকদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নদী পারাপার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি থানার ওসিকে জানান। আমিও বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করছি এবং খোঁজ নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার যৌথ অভিযানে বাসটি উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।