

ছুরিকাঘাতে শিবির নেতা নিহতের ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল। রোববার (২১ জুন) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয় জানান জেলা যুবদলের নেতাকর্মীরা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টো এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের কর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে।
গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরী বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। বরং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আগামীতেও। কারণ অপরাধী কোনো দলের হতে পারে না। আমরা সাধারণ মানুষের দল করি, অপরাধীদের দল করি না।
উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সঙ্গে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়কের মুকুলের কথার কাটাকাটি হয়। এ সময় ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পরে স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর উপজেলা চত্বর থেকে সবাই চলে যায়।
এ ঘটনার কয়েক মিনিট পর বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও শিবির কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া টু সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। এই সময় সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া ও তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, যুবদল নেতা মোনারুল ও জব্বারসহ ১০ থেকে ১৩ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করেন।
এ সময় হামলাকারীরা সালাউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে। সে সময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী এগিয়ে এলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তার উপর ফেলে গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন।
এরপর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া নেন। পরে তাদের মধ্যে শিবির নেতা সাইফুল্লাহকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত শিবির কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।