

পাবনার আতাইকুলায় হাসপাতাল থেকে নাতনির মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে নিহত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আতাইকুলা থানার সরাডাঙ্গায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান।
নিহতরা হলেন- সাথিয়া উপজেলার মাহমুদপুরের মৃত কিশোরীর নানি বুলু খাতুন (৫৮) ও নানা ছলিম প্রামাণিক (৭০), গোবিন্দপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে শিশু নাফিস (৭) এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার জামাল শেখের ছেলে রাজ শেখ (২৮)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে মৃত কিশোরী কেয়ার লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে পাবনার সাথিয়ায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন কেয়ার পরিবারের স্বজনরা। পথিমধ্যে আতাইকুলা থানার সরাডাঙ্গা নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেসের একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক এবং কেয়ার নানি মারা যান।
জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আরও চার যাত্রী গুরুতর আহত হয়। তাদের পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে আহত নানা ছলিম প্রামাণিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা থেকে রাজশাহী নেওয়ার পথে সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয় এবং গুরুতর আহত শিশু নাফিস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টার দিকে মারা যায়। এ ঘটনায় আহত দুজন ছলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০) ও নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে কেয়া খাতুনের লাশ নিয়ে পাবনার বাড়িতে ফিরছিলেন। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামের বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হয়। হাসপাতালে নিলে আরও ২ জন মারা যান।
তিনি আরও জানান, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হলেও চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছে।