

বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নে স্ত্রীর সহায়তায় ১৩ বছর বয়সী এক এতিম শিশুকে প্রতিবেশীর ঘরে আটকে রেখে রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত আড়াইটায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নম্বর আসামি রুহুল আমিনকে (২৬) নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন শিশুর মা।
গ্রেপ্তার রুহুল আমিন চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর গ্রামের জালাল আকনের ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন- প্রতিবেশী রাজারচর গ্রামের মো. আনিছের ছেলে মো. ইলিয়াস (৩৫), তার স্ত্রী রোকসানা বেগম (২৫) ও একই এলাকার মোক্তার হোসেনের ছেলে সাঈদ (২০)।
মামলার বাদী শিশুর মা জানান, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যার দিকে তার মেয়েকে জোরপূর্বক নিজের ঘরে নিয়ে যায় প্রতিবেশী ইলিয়াসের স্ত্রী রোকসানা বেগম। মেয়ের কানে থাকা একজোড়া দুল ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখার জন্য বলে তার স্বামীকে।
তিনি আরও জানান, রোকসানা কানে থাকা স্বর্ণের দুল নিয়ে রাতে অন্যত্র চলে যায়। পরদিন ভোর ৫টার দিকে গ্রামের পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশ থেকে শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। শিশুটি তার মাকে জানায়, রোকসানা (দূর সম্পর্কের মামি) তার কানের দুল খুলে রেখে রাতভর তাদের মাচায় আটকে রাখে। সেখানে ইলিয়াসসহ তিনজন রাতভর মাদক সেবন করে। তবে তখনও ভয়ে ধর্ষণের কথা আমাকে জানায়নি।
শিশুর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বুধবার দুপুরের দিকে মেয়েকে চিকিৎসা করানোর কথা বলে পালিয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় যাই। সেখানে পুলিশ ওই শিশুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন সে পুলিশের কাছে স্বীকার করে, রাতভর আটকে রেখে মাদক সেবনের পাশাপাশি তিনজন মিলে ধর্ষণ করে।
তিনি বলেন, কানের দুল খুলে রাখার কারণ জানতে চাইলে প্রতিবেশী ইলিয়াস ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই দিনেই আমাকে মারধর করে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে চাইলে তারা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মেয়ের মা ধর্ষণের অভিযোগ করার পর পরই আমরা মামলা গ্রহণ করি। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি৷
ওসি আরও বলেন, শিশুটি নিশ্চিত করেছে গ্রেপ্তার যুবক তাকে ধর্ষণ করেছে। তবে আটক রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে থাকার কথা স্বীকার করলেও ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেনি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার রুহুল আমিনকে আদালতের মাধ্যমে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।