

ঢাকার তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিপুল সংখ্যক হাড়সহ সংঘবদ্ধ মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক, মো. আবুল কালাম, আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ এবং ফয়সাল আহম্মেদ। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা এতথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শাহাদাত হোসেন নাফিস আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছিলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, তেজগাঁও থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মনিপুরীপাড়াস্থ ১নং গেটের সামনে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত পৌনে ২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দেশের বিভিন্ন কবরস্থান হতে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ‘Sapporo Dental College & Hospital’-এর হোস্টেলে অভিযান পরিচালনা ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্নজনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করত। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানার এসআই মিরাজ উদ্দিন আজ মঙ্গলবার মামলা দায়ের করেন।