

রাজবাড়ীতে পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিমকে হত্যা মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি হলেন– বাবলু সরদার, টোকন সরদার ও গাজীয়া সরদার। আর দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার, রায়হান সরদার, হবিবর রহমান ওরফে হবি সরদার, হেলাল খা, জিল্লু বেপারি ওরফে কাজী ও জিয়া মণ্ডলকে দেওয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাবলু সরদার যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আতর আলীর ছেলে। দণ্ডিত প্রত্যেককে রায়ে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রশীদ মোল্লা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী শামসুদ্দিন জুম্মন জানান, এ মামলার ২২ আসামির মধ্যে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দিয়েছেন।
তারা হলেন- কামরুল শেখ, কবির শেখ, সামাদ শেখ, আফতার শেখ, আমজাদ শেখ, জহুরুল মণ্ডল, মিন্টু মোল্যা, জাকিরুল শেখ, সবুজ মণ্ডল, সাইদুল মোল্যা ও ছাত্তার খা।
এছাড়া মতিয়ার ও আলাল সর্দার (মাঝি) নামের দুই আসামি মামলার বিচার চলাকালে মারা যাওয়ায় তাদেরও অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
২০১৯ সালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার আতর আলী বাজারে পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তারকে হত্যার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গোয়ালন্দ থানার দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আতর আলীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম মণ্ডল। তবে নির্বাচনে আতর আলীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন হাফিজুল ইসলাম।
২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের সম্মেলন ছিল। নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থী সেখানে উপস্থিত হন।
আতর আলীর লোকজন সম্মেলনে হট্টগোল, চিৎকার শুরু করলে নেতারা তাদের শান্ত করেন। এক পর্যায়ে বাবলু সরদার সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। পরে আতর আলী তার লোকজন নিয়ে তিন রাস্তার মোড়ে সশস্ত্র অবস্থান নেন।
হাফিজুল ইসলামের কর্মী নিজামকে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মারধর করা হয়। খবর শুনে আবু ডাক্তার সেখানে গেলে তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে তারা।
আবুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। আবুকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওই ঘটনায় আবুর বাবা মোবারক মোল্লা গোয়ালন্দঘাট থানায় ৩৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ফরিদপুর জেলা পিবিআইয়ের এসআই নজরুল ইসলাম ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
এরপর দ্রুত বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৩০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।