

রাজধানীর পল্লবীতে ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ ৭ দিন মরদেহটি বাসায় পড়ে থাকলেও বিষয়টি কারও নজরে আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনাটির সুষ্ঠু বিচার ও সঠিক কারণ উদঘাটনের তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রিটে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (০৩ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষের আইনজীবী হলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ‘এটি একটি হৃদয়বিদারক এবং অমানবিক ঘটনা। নিজ বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সী একজন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নারীটি চার সন্তানের জননী। মৃতদেহটি পচা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং এতে পোকা ধরেছিলো। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নারীটি ৭-৮ দিন আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। তার সন্তানরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তাদের মধ্যে একজন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, একজন বুয়েট অধ্যাপক এবং একজন প্রবাসী। নারীটি যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষেই তার স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে থাকতেন। মায়ের সঙ্গে পাশাপাশি রুমে বসবাস করলেও মৃত্যুর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেননি মেয়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে, যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।’
এ সময় আইনজীবী আরও বলেন, এই অমানবিক ঘটনায় কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না তা তদন্ত করা এবং ৭ দিন ধরে একজন বয়স্ক নারীর মরদেহ ফ্ল্যাটে পড়ে থাকলেও কেন কেউ খবর নেয়নি, সেই অবহেলাজনিত কারণ এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘উন্নত দেশের মতো বয়স্ক নাগরিকদের জন্য সরকার প্রদত্ত নার্স বা কেয়ারগিভারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
এর আগে, গত ৩১ মে রাজধানীর নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।