

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তানভীর সংঘও বাদ পড়েছেন চোটের কারণে। তাদের বদলে দলে সুযোগ রাখা হয়েছে ম্যাট শর্ট, অলিভার পিক ও অফস্পিনার টড মারফিকে।
প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, পাকিস্তান সিরিজে বিশ্রামে থাকা হেড এবং গোড়ালির চোটে আক্রান্ত মার্শ বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের সিরিজে ফিরবেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা হচ্ছে না। মার্শ এখনও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারবেন না।
অপরদিকে, ব্যক্তিগত কারণে পুরো বাংলাদেশ সফরের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই ছুটি নিয়েছেন হেড। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের নির্বাচক টনি ডোডেমেইড এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম মিচেল মার্শ বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য প্রস্তুত হবে। কিন্তু সে এখনও গোড়ালির চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার পথে রয়েছে। তবে সে ঢাকায় দলের সঙ্গে যোগ দেবে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবে।’
হেডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ট্রাভিসকে প্রথমে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই সিরিজের জন্যই দলে রাখা হয়েছিল। তবে পরে তাকে ব্যক্তিগত কারণে ছুটি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাকে আবার দলে পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।’ হেডের অনুপস্থিতি শুধু ওয়ানডেতেই নয়, টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ভোগাবে অস্ট্রেলিয়াকে। তার বদলি হিসেবে টি-টোয়েন্টি দলে কাকে নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে। এই সুযোগে ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী অলিভার পিক। অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ককে দীর্ঘদিন ধরেই ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান সফরে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।
লাহোরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কঠিন উইকেটে ৩১ রানের পরিণত ইনিংস খেলে নজর কাড়েন পিক। সফরের আগে তার লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ ছিল মাত্র ছয়টি। এখনও সিনিয়র পর্যায়ে কোনো সেঞ্চুরি না থাকলেও তার শান্ত স্বভাব ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেছে।
অধিনায়ক জশ ইংলিসও তরুণ ব্যাটারের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি অলি পিককে বলেছিলাম, একজন অস্ট্রেলিয়ানের জন্য এর চেয়ে কঠিন কন্ডিশন পাওয়া কঠিন। আমাদের জন্য এসব উইকেট একেবারেই ভিন্ন ধরনের। তবে এ ধরনের অভিজ্ঞতা তরুণদের অনেক কিছু শেখায়।’
বাংলাদেশের কন্ডিশন নিয়ে সতর্ক ইংলিস। তার মতে, এখানে স্পিন ও রিভার্স সুইং মোকাবিলা করা বিদেশি ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আইপিএলের ব্যাটিং-সহায়ক উইকেট থেকে আসা ক্রিকেটারদের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে না।
এদিকে লেগস্পিনার তানভীর সংঘ হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ায় তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন অফস্পিনার টড মারফি। সাতটি টেস্ট খেলা মারফির জন্য এটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অভিষেকের সুযোগ।
পাকিস্তান সফরে ব্যাট ও বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখানো ম্যাট শর্টও দলে জায়গা ধরে রেখেছেন। এছাড়া আইপিএল শেষে দলে যোগ দিয়েছেন পেসার জাভিয়ার বার্টলেট ও বেন ডোয়ারশুইস।
আগামীকাল ৯ জুন ঢাকার শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরের ওয়ানডে ম্যাচ দুইটিও হবে ঢাকায়, ১১ জুন ও ১৪ জুন। এরপর ১৭ জুন থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।