

জুলাইয়ে গণকবর ও নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া শহীদদের শনাক্তে কাজ চলছে, সব শনাক্ত হলে শহীদদের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন৷
এসময় তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে একটি হাসপাতাল থেকে কিছু মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নারায়ণগঞ্জে একটি গণকবর আছে, মুন্সীগঞ্জে একটি বড় গণকবর রয়েছে। এসব স্থান পরিদর্শন করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শহীদদের পরিচয় শনাক্তের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কিছু রিপোর্ট আমরা ইতোমধ্যে পেয়েছি, আরও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, গণকবরের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে পড়ে থাকা অনেক মরদেহও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার সময় কয়েকটি হাসপাতালে নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের নিবন্ধন খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে, আবার কোথাও পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন, সুরতহাল বা ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকার অদূরে একটি নদীতে একটি হাসপাতাল থেকে বহু মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
সেই হাসপাতালের তৎকালীন কর্তৃপক্ষ এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিচারের আওতায় আনা হবে, বলেন তিনি।
তিনি জানান, জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত নিহতদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিটি শহীদ ও তাদের পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
জাতির কাছে আমাদের অঙ্গীকার, একজন শহীদও যেন পরিচয়হীন না থাকেন। গণহত্যার সঙ্গে জড়িত রাষ্ট্রের যত বড় ব্যক্তি বা রাষ্ট্রযন্ত্রের সদস্যই হোন না কেন, কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের বিচার বাংলার মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে, বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যাদের কাছে জুলাই গণহত্যাসংক্রান্ত কোনো তথ্য, নথি বা সাক্ষ্য রয়েছে, তা তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঢাকার কাছের একটি নদীতে হাসপাতাল থেকে মরদেহ ভাসিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল, তৎকালীন কর্তৃপক্ষ এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৮৬৫ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে জুরাইন কবরস্থান, নারায়ণগঞ্জ, মাওয়া, মুন্সীগঞ্জের গণকবর এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে। সব তথ্য একত্রিত হলে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০-এর বেশি হতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের কথা বলা হয়েছে। তবে আমাদের তদন্তে ধারণা করছি, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সরকারের অবস্থান ইতোমধ্যে স্পষ্ট করা হয়েছে।