

ধরে নিচ্ছি আপনি দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে ব্যাচেলর্স বা মাস্টার্স করছেন। আপনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত যতটা সম্ভব ভালো রেজাল্ট করা। সাধারণভাবে ৪.০০ এর মধ্যে ৩.৫০কে স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ হিসেবে ধরা হয়। এর বেশি হলে ভালো, কম হলেও সমস্যা নেই। তবে খুব কম হলে চ্যালেঞ্জ বাড়বে। তবুও চেষ্টা করলে যেকোনো সিজিপিএ নিয়েই আপনি বিদেশে কোনো না কোনো প্রোগ্রামে ফুল স্কলারশিপ, ফুল ফান্ডিং বা আংশিক টিউশন ফিসহ পড়ার সুযোগ পেতে পারেন। রেজাল্ট ভালো থাকলে অবশ্যই প্রতিযোগিতা কমবে। তাই শেষ সেমিস্টার হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রেজাল্ট উন্নত করার চেষ্টা করুন।
এরপর মনোযোগ দিন আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা পরীক্ষায়, যেমন টোফেল। কিছু দেশে ডুওলিংগো বা মিডিয়াম অব ইন্সট্রাকশন (এমওআই) গ্রহণ করলেও আইইএলটিএস বা টোফেল থাকলে আপনার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে সুযোগ না থাকলে ডুওলিংগো বা এমওআই দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন। আইইএলটিএস স্কোর ৬.৫ বা তার বেশি হলে স্কলারশিপ পেতে সুবিধা হবে।
বিদেশে জীবন অনেকটা নিজের ওপর নির্ভরশীল। সব কাজ নিজেকেই সামলাতে হয়। তাই মানসিক দৃঢ়তা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনকারীর লিডারশিপ কোয়ালিটি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। যাদের নেতৃত্বগুণ রয়েছে, তারা সাধারণত মানসিকভাবে দৃঢ় হয়, তাদের মাঝে শৃঙ্খলা থাকে, তারা সমস্যা দেখে ভয়ে পালিয়ে না গিয়ে সেটা মোকাবেলা করে বা সমাধানের চেষ্টা করে। তাই আবেদনপত্রে আপনার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলুন। টিমওয়ার্ক, সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা বা বিষয়ভিত্তিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ—এসব অভিজ্ঞতা আপনাকে নিশ্চিতভাবে বাড়তি সুবিধা দেবে।
এরপর তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, বিভিন্ন থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্ম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপগুলো অনেক সহায়ক। প্রথমে ঠিক করুন কোন প্রোগ্রামে এবং কোন দেশে মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে চান। আমার ব্যক্তিগত মত হলো, এক দেশ বা এক প্রোগ্রামে সীমাবদ্ধ না থেকে কয়েকটি দেশ ও প্রোগ্রাম বিবেচনায় রাখলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আমি মনে করি, ইংরেজিভাষী দেশগুলো প্রথম অগ্রাধিকার হতে পারে। ভাষাগত সুবিধা, চাকরির সুযোগ এবং ভবিষ্যতে সেখানে সেটেলমেন্টের সম্ভাবনা থাকে। এরপর ইউরোপের দেশগুলো, তারপর আরব দেশের কথা ভাবা যায়, আর সবশেষে এশিয়ান দেশগুলো। অবশ্য একেকজনের প্রায়োরিটি ভিন্ন হতে পারে।
দেশ ও প্রোগ্রাম ঠিক হয়ে গেলে আপনার প্রোফাইলের সঙ্গে মিল আছে এবার বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করুন। অন্তত ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা করুন। প্রতিটির আবেদনের শেষ তারিখ (ডেডলাইন) নোট করে নিন। কাজটা যত গুছিয়ে করবেন, পুরো যাত্রাটি তত সহজ হবে। এজন্য একটি নোটবুক রাখতে পারেন অথবা গুগল ডকস, শিটস, এক্সেল বা গুগল কিপ ব্যবহার করতে পারেন।
ডেডলাইন মাথায় রেখে স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), মোটিভেশন লেটার এবং দুই পৃষ্ঠার বেশি নয়—এমন সিভি সুন্দর করে লিখুন। এসবের জন্য ইউটিউব বা গুগলে প্রচুর টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। শিক্ষকদের সঙ্গে আগেই কথা বলে রিকমেন্ডেশন লেটার সংগ্রহ করুন। নিজের সার্টিফিকেটগুলোও গুছিয়ে রাখুন। এরপর যথাসময়ে আবেদন করুন।
যদি ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, সেজন্য প্রস্তুতি নিন। ২–৩টি অনলাইন কোর্স করতে পারেন। এক্ষত্রে কোর্সেরা একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম। এগুলো সিভিতে যেমন গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে, তেমনি আপনি যে বিষয়ে পড়তে যাচ্ছেন তার বেসিক ধারণা তৈরি করবে এবং ইন্টারভিউতেও কাজে লাগবে।
ইন্টারভিউতে মূলত দেখা হয়, আপনার মোটিভেশন কতটা, সিভিতে দেওয়া অভিজ্ঞতা কতটা সত্যিকার অর্থে আপনার, এবং যে প্রোগ্রামে আবেদন করেছেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা আছে কি না। তাই এগুলো মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিলেই যথেষ্ট।
সবশেষে অ্যাডমিশন পেয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করুন। ভিসা হয়ে গেলে বিমান টিকিট কাটুন, বাসা ঠিক করুন—বিশ্ববিদ্যালয় বা স্থানীয় স্টুডেন্ট কমিউনিটির সাহায্য নিতে পারেন। নির্দিষ্ট দিনে ব্যাগ গুছিয়ে বিমানে উঠে পড়লেই শুরু হবে আপনার নতুন জীবন।
লেখক : সাকলাইন মোস্তাক, পিএইচডি শিক্ষার্থী, যুক্তরাষ্ট্র
মন্তব্য করুন