

ভূগর্ভস্থ ফাটলরেখা বা ফল্টলাইন হলো পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকা বড় শিলাস্তরের ভাঙন বা চিড়, যেখানে দুই পাশের ভূস্তর একে-অপরের তুলনায় সরে যেতে পারে। আরও সহজভাবে বললে, পৃথিবীর ভূত্বক বিশাল বিশাল প্লেট দিয়ে তৈরি। এই প্লেটগুলোর সীমান্তে বা ভেতরে যখন চাপ জমে শিলা ভেঙে যায় ও সরে যায়, তখনই ফল্ট বা ফাটল তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্ট গবেষকদের তথ্যমতে, ফল্টলাইন ভূস্তরের ভাঙা অংশ যেখানে শিলাস্তর দুই দিকে সরে যেতে পারে—উপর-নিচ, ডানে-বামে বা তির্যকভাবে। ফল্টলাইন বরাবর শিলার সরে যাওয়াকে বলা হয় ফল্টিং। এগুলোর আকার ছোট কয়েক মিটার থেকে শুরু করে কয়েকশ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
ফল্টলাইনের প্রকারভেদ
* নরমাল ফল্ট : ভূপৃষ্ঠ টান খেলে এক পাশ নিচে নেমে যায়।
* রিভার্স/থ্রাস্ট ফল্ট : চাপ খেলে এক পাশ উপরে উঠে যায়।
* স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট : দুই পাশ সামান্য আড়াআড়িভাবে সরে যায় (যেমন : স্যান অ্যান্ড্রিয়াস ফল্ট)।
ভূমিকম্পের সঙ্গে ফল্টলাইনের সম্পর্ক : ভূমিকম্প মূলত ফল্টলাইনের ভেতরে বা আশপাশে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হওয়ার ফলে ঘটে।
ভূমিকম্প যেভাবে হয়
ভূস্তরের প্লেটগুলো সবসময় নড়ে—ধীরে ধীরে চাপ জমা হয়। শিলা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি চাপ সহ্য করতে না পেরে হঠাৎ ভেঙে বা সরে যায়। এই হঠাৎ সরে যাওয়ার সময় যে শক্তি মুক্ত হয়, সেটিই সিসমিক ওয়েভ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে—এটাই ভূমিকম্প।
ফল্টলাইনের কাছে ভূমিকম্প বেশি থাকার কারণ সেখানে শিলাস্তর দুর্বল ও আগে থেকেই ভাঙা। প্লেটগুলো একে-অপরের বিরুদ্ধে ঠেলা বা টান সৃষ্টি করায় সেখানে খুব সহজেই চাপ জমে। তাই বেশিরভাগ বড় ভূমিকম্প ফল্টলাইন বরাবর বা তার আশপাশে ঘটে।
মন্তব্য করুন