কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২১ পিএম
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সরাসরি এলপি গ্যাস আমদানিতে যাচ্ছে সরকার

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

সংকট কাটাতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি।

জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠে আসছে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবিলাই বিপিসির প্রধান লক্ষ্য। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই নানা জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না, যার সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। আপাতত সরকার শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে, আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস ও বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন। ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশ খরচ হয় রান্নায়, বাকি ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা ও যানবাহনে। প্রতিবছর এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত এলপি গ্যাস লিমিটেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে দেশে এলপিজির চাহিদা বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। সরকারি উৎস থেকে জোগান দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টন, যা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা এম শামসুল আলম জানান, বিগত সরকারগুলো এলপিজি খাতকে পুরোপুরি বাণিজ্যিক করে ফেলেছে। তাই ভোক্তাবান্ধব সিদ্ধান্ত দরকার। প্রয়োজনে সরকারিভাবে আমদানি করে সরবরাহ বাড়াতে হবে।

কালবেলা/এমএইচ
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৫ আগস্ট ঢাকায় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন

ফ্লাইওভারে ওড়ানো সেই পতাকা প্রধানমন্ত্রীকে দিতে চান গুলিবিদ্ধ আজিজুর 

যুবদল কর্মী পারভেজ হত্যা: ৩ দিনের রিমান্ডে শ্যুটার চঞ্চল

অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে ছিটকেই গেলেন নাহিদ রানা, অনিশ্চিত আরও দুই ক্রিকেটার

সারাদেশে বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ঢাবি ভিসি

রিমান্ড শেষে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পি ও তার সহযোগী কারাগারে

পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়তে ৩৩০০ ভবনে একযোগে অভিযান

পরিকল্পিত নগরায়ন গড়তে সবুজায়নের বিকল্প নেই: ভূমিমন্ত্রী 

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে খেলাধুলা ও শিক্ষার বিকল্প নেই: পানিসম্পদমন্ত্রী

১০

যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী

১১

সেরা গোলের দৌড়ে আর্জেন্টিনার দুই তারকা, তালিকায় আরও আছেন যারা

১২

শিকড় সন্ধানী 'ইত্যাদি' এবার লক্ষ্মীপুরে, কবে প্রচার?

১৩

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাঁধনের সিনেমা

১৪

সাধারণ মানুষ ভাবে, যা হয় সবই সরকারের দোষ: বিদ্যুৎমন্ত্রী

১৫

খেলতে গিয়ে খালের পানিতে ডুবে গেল ২ শিশু

১৬

নিয়োগ পরীক্ষার হলে সাবেক এমপি পুত্রের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক

১৭

প্রবাসীদের আইন মেনে চলতে হবে: মোবাশ্বের আলম

১৮

মেধাবী নীরবের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

১৯

সিলেটে জামায়াতের আমির / ‘ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন, না হলে জনগণই জবাব দেবে’

২০
X