

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে অমর একুশে বইমেলা শুরু হওয়ার রীতি থাকলেও এবার সংসদ নির্বাচনের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। পহেলা ফেব্রুয়ারি বইমেলা আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রতীকী বইমেলা আয়োজন করা হবে। একুশে বইমেলা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী এই প্রতীকী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লালটু। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারাবাহিকতায় একুশে বইমেলা পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এ বছর ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্তে লেখক, প্রকাশক, পাঠক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। একুশে বইমেলা কেবল বই বিক্রির আয়োজন নয়, এটি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসব।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, নির্বাচন বা নিরাপত্তার অজুহাতে বইমেলা পেছানোর যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতেও জাতীয় নির্বাচন ও রমজান মাসে বইমেলা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বেচ্ছাচারী উল্লেখ করে তারা বলেন, এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রতীকী বইমেলায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে লেখক, কবি, প্রকাশক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে আলোচনা, আবৃত্তি, সংগীত ও নাট্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাঈদ বারী, অভিনেতা ও সংগঠক খোন্দকার শাহ আলম, কবি দেলোয়ার হাসান, প্রকাশক আলমগীর শিকদার লোটন, জাকির হোসেন, কবি কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, কামাল হোসেন বাদল, কবি কৌমুদীনী নার্গিসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন