কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ এএম
আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মাসদারের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরও তিনি মামলার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি, ফলে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত ৪২ লাখ টাকার বেশি জরিমানা গুনতে হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তিনি পত্রিকায় দেখেছেন। একজন মক্কেল সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে অভিযোগ করেছেন যে– তার কাছ থেকে চেকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি করণীয় নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বার কাউন্সিলে গেলে সনদের বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি এতে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি ও আয়কর সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। আইন মন্ত্রণালয়ে আপাতত কিছু করণীয় নেই।

জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন অফিসার জামাল হোসাইন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে বলা হয়, কর সংক্রান্ত একটি মামলায় আপিল করার জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী আইনজীবী মাসদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলার কর শূন্য করে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়ে মাসদার হোসেন মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে মোট ১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়, যা তিনি রসিদ দিয়ে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ভ্যাট আপিলের জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি যথাযথ তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেননি। পরে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটিতে ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ রায় হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, করের পুরো অঙ্ক মওকুফ করে দেওয়ার আশ্বাসে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কাজ না করে কোম্পানিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ অবস্থায় নেওয়া অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরত চেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের রায় এবং ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়। ঐতিহাসিক এই মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, দুঃখপ্রকাশ সিএমপি কমিশনারের

পাকিস্তানে সেনা অভিযানে চার শীর্ষ জঙ্গি নেতাসহ ২১ সন্ত্রাসী নিহত 

বক্স অফিসে ঝড়, এবার আইনি বিতর্কে ‘দৃশ্যম ৩

দেড় যুগ পার হলেও মেলেনি গ্রামীণফোনের কর্মীদের বকেয়া

ব্যবসায়ী শফিকুল হত্যার রহস্য উন্মোচন

নাঈমের সঙ্গে যা হয়েছে, কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: তামিম

টানা বৃষ্টিতেও জলাবদ্ধতা হয়নি, দাবি চসিক মেয়রের

কক্সবাজারে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

হাসপাতাল বন্ধ, নাকি দায়ীদের শাস্তি?

গ্যাসের চাপ কতক্ষণ কম থাকবে, জানাল তিতাস কর্তৃপক্ষ

১০

কুয়েত-কাতারের চেয়েও বড় বাজেট বাংলাদেশে : রাষ্ট্রদূত মুশফিক

১১

ভারতে বিমান বিধ্বস্তে ৫ সামরিক সদস্য নিহত

১২

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হলেন শেখ মেহেদী

১৩

দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

১৪

দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

১৫

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর

১৬

কাপ্তাই সড়ক অবরোধ, উত্তেজনা

১৭

বিশ্বকাপে নামার আগেই ইংলিশ ফুটবলারদের বুট চুরি

১৮

ধর্ষণের অভিযোগের পর সেই শিবির নেতা বহিষ্কার

১৯

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্প, কেঁপে উঠল মায়সান

২০
X