

বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন রোগীর মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। রোগীর পরিবার ও স্বজনদের শোক, কষ্ট ও আবেগের প্রতি সম্মান জানালেও কোনো অবস্থাতেই সেই শোক বা ক্ষোভ চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর ওপর শারীরিক হামলা, অপমান, ভাঙচুর বা হুমকির মাধ্যমে প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল, ঝুঁকিপূর্ণ ও মানবিক পেশা। সীমিত জনবল ও সম্পদের মধ্যেও চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের জীবন রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সদের ৪৮ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তবে এসব ঘটনার মাত্র ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য আইনগত, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, হাসপাতালের ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং দায়িত্ব পালনরত স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা চালানো কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা মানসিকভাবে ভীত ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব রোগীদের চিকিৎসাসেবার ওপর পড়বে। তাই স্বাস্থ্যখাতকে নিরাপদ রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, প্রশাসন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সমাজের সকল সচেতন মানুষের দায়িত্ব।